রবিউল ইসলাম ,খুলনা।১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬_
দেশে খুন, ধর্ষণ, চুরি ও মাদকের মতো অপরাধ বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। বিচার পেতে দীর্ঘসূত্রতা আর আসামিদের বারবার জামিন পাওয়াকে দায়ী করছেন অনেকে। এ অবস্থায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে “ক্রসফায়ার নয়, কঠোর আইন চাই” শীর্ষক আলোচনা জোরালো হয়ে উঠেছে।
নেটিজেনদের মতে, অপরাধ দমনে বিচারবহির্ভূত হত্যা স্থায়ী সমাধান দিতে পারে না। বরং আইনকে আরও কঠোর ও দ্রুত কার্যকর করলেই দেশে অপরাধ প্রবণতা কমবে।
*যেসব প্রস্তাব উঠে এসেছে*
সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
*খুনের ক্ষেত্রে* প্রমাণিত হলে ১ মাসের মধ্যে বিচার শেষ করে ফাঁসির রায় কার্যকরের দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ভুক্তভোগী পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছে।
*ধর্ষণের ক্ষেত্রে* ১৫ দিনের মধ্যে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে বিচার শেষ করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার প্রস্তাব এসেছে। এ ধরনের অপরাধে জামিন না দেওয়ারও দাবি উঠেছে।
*হত্যাচেষ্টার জন্য* ৩০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং কোনো জামিন না দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সাথে বড় অংকের আর্থিক জরিমানার প্রস্তাবও রয়েছে।
*চুরি ও ছিনতাই রোধে* কঠোর শাস্তি ও ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক ক্ষতিপূরণের বিধান রাখার দাবি জানানো হয়।
*মাদক নির্মূলে* মাদক ব্যবসায়ীদের ১ কোটি টাকা জরিমানা এবং মাদক সেবনকারীদের ১০ বছর জেলের বিধান চেয়েছেন তারা। এই দুই ক্ষেত্রেই জামিন না দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন অনেকে।
*জনমত: আইন হলেই অপরাধ কমবে*
সাধারণ মানুষের বক্তব্য, আইন যদি কঠোর হয় এবং তা যদি সময়মতো প্রয়োগ হয়, তাহলে “ক্রসফায়ার” এর প্রয়োজন হবে না। তাদের মতে, সঠিক আইন ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত হলেই দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির স্বাভাবিক উন্নতি হবে।
তবে অনেকেই মনে করেন, এ ধরনের কঠোর আইন পাস ও বাস্তবায়নে রাজনৈতিক সদিচ্ছা, বিচার বিভাগের সংস্কার এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অপরাধ দমনে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল গঠন, তদন্ত প্রক্রিয়া আধুনিকায়ন এবং জামিন নীতি পুনর্বিবেচনা এখন সময়ের দাবি।