_রবিউল ইসলাম রবি মল্লিক, স্টাফ রিপোর্টার, খুলনা ভিশন
শহর থেকে মফস্বল—সবখানেই এখন বাইকারদের একটাই আক্ষেপ। দুই চাকার শখের বাহনটি কি তবে অপরাধের প্রতীক হয়ে উঠলো? রেজিস্ট্রেশন, ট্যাক্স টোকেন, ড্রাইভিং লাইসেন্স থেকে হেলমেট—প্রতি পদে কাগজের পাহাড় সামলাতে গিয়ে নাভিশ্বাস উঠছে সাধারণ রাইডারদের।
রাইডারদের অভিযোগ: আইন নয়, হয়রানি
বাইকারদের মূল ক্ষোভ জরিমানার পরিমাণ ও প্রক্রিয়ার জটিলতা নিয়ে। সড়ক পরিবহন আইনে বর্তমানে ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকলে সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা জরিমানা ও ৬ মাসের জেল, রেজিস্ট্রেশন ছাড়া বাইক চালালে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও ৬ মাস জেল, ট্যাক্স টোকেনের মেয়াদ না থাকলে ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও বাইক জব্দের বিধান রয়েছে। নকল কাগজে ৫ লক্ষ টাকা জরিমানা ও ২ বছর পর্যন্ত জেল, আর হেলমেট না পরলে ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও ৩ মাস জেল হতে পারে।
“সাবান কিনলে ভ্যাট আগেই কাটে, তাহলে বাইকের ট্যাক্সের জন্য কেন বারবার কাগজ নিয়ে ঘুরতে হবে?”—এই প্রশ্ন এখন লাখো বাইকারের।
কাগজ জটিলতার পাশাপাশি বিআরটিএর লাইসেন্সের জিগজ্যাগ টেস্ট নিয়েও তীব্র ক্ষোভ। রাইডারদের দাবি, বাস্তব রাস্তার সাথে এর কোনো মিল নেই। “এটা পরীক্ষা না, তামাশা। আইনপ্রণেতারাও প্রথমবারে পাস করতে পারবেন না”—বলছেন তারা।
এর সাথে যুক্ত হয়েছে রাস্তায় হয়রানির অভিযোগ। ফগ লাইট, হর্ন পরিবর্তন, শখের স্টিকার বা রঙ বদলালেই মামলা। সামান্য যান্ত্রিক ত্রুটিতেও ঘুষ লেনদেন ও গণহারে হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ।
কর্তৃপক্ষের যুক্তি: শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার স্বার্থে
তবে ট্রাফিক বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভিন্ন বক্তব্য। তাদের মতে, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো ও দুর্ঘটনা কমাতেই কঠোর আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।
জিগজ্যাগ টেস্টকে তারা চালকের নিয়ন্ত্রণ ও দক্ষতা যাচাইয়ের মাপকাঠি বলছেন। অতিরিক্ত আলো ও অবৈধ মডিফিকেশন অন্য চালকদের বিভ্রান্ত করে—তাই নিরাপত্তার স্বার্থেই তা নিষিদ্ধ।
ট্রাফিক পুলিশের দাবি, আইন ভাঙলে নিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। হয়রানি বা ঘুষের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে বিভাগীয় ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।
সমাধান কী?
দুই পক্ষের অবস্থান বিপরীতমুখী হলেও রাইডারদের দাবি একটাই—আইন জননিরাপত্তার জন্য হোক, হয়রানির জন্য নয়। তারা অযৌক্তিক ধারা সংশোধন ও হয়রানি বন্ধের দাবিতে সংঘবদ্ধ প্রতিবাদের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
আইন কঠোর হবে, তবে তা যেন সহজ, স্বচ্ছ ও বাস্তবসম্মত হয়—এখন সেটাই সময়ের দাবি।