সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জে বন বিভাগের স্মার্ট টিমের অভিযানের নামে বিভিন্ন নৌকা ও ট্রলার আটক করে পরে ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, মান্দারবাড়িয়া, দোবেকি, পুষ্পকাটি, নোটাবেকিসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে কয়েকটি চারপাটা নৌকা ও ট্রলার আটক করা হলেও পরবর্তীতে সেগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এসব ঘটনায় আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও সামনে এসেছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, কামরুল কোম্পানি, বিপুল কোম্পানি, জামাল, শহিদুল, অয়ন কোম্পানিসহ বিভিন্ন ব্যক্তির নৌকা ও ট্রলার আটকের পর সেগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে কোন নৌকা কী অভিযোগে আটক করা হয়েছিল এবং কী প্রক্রিয়ায় পরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে—এ বিষয়ে বন বিভাগের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন থেকে নৌকা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের একটি তালিকা নিয়ে স্মার্ট টিমের কাছে পাঠানো হয়। পরে স্মার্ট টিমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে ওই নৌকা ও ট্রলার ছেড়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে অর্থ সংগ্রহের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগে যাদের নাম এসেছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন টহল ফাঁড়ির টিম লিডার ও ফরেস্টার ইসমাইল, টেংরাখালী টহল ফাঁড়ির সহকারী ফরেস্টার মিঠুন চক্রবর্তী, এফজি, বুড়িগোয়ালিনী স্টেশনের আউটসোর্সিং ড্রাইভার মহিউদ্দিন এবং আউটসোর্সিং কর্মী রুহুল আমিন। অভিযোগ অনুযায়ী, তাদের মধ্যে কয়েকজন নৌকা-ট্রলার সংক্রান্ত তালিকা ও অর্থ সংগ্রহের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগে উল্লিখিত ব্যক্তিদের বক্তব্যও প্রতিবেদনের জন্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরার বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা আসিফের সরকারি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
সুন্দরবনের মতো সংরক্ষিত ও গুরুত্বপূর্ণ বনাঞ্চলে আইন প্রয়োগকারী দলের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। নৌকা বা ট্রলার আটকের পর তা কোন আইনি প্রক্রিয়ায় জব্দ বা মুক্ত করা হয়েছে, কোনো মামলা বা জব্দ তালিকা হয়েছে কি না এবং অর্থ লেনদেনের অভিযোগের সত্যতা কী—এসব বিষয়ে বন বিভাগের স্বচ্ছ তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে নিরপরাধ জেলে বা বনজীবীদের হয়রানি বন্ধ এবং সুন্দরবনে বন বিভাগের অভিযানকে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার আহ্বান জানানো হয়েছে।