• বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৯ পূর্বাহ্ন
Headline
নবীনগরে তিতাস নদী ভরাট, ফরিদ মিয়াকে ২ লাখ টাকা ও ১৫ দিনের আল্টিমেটাম । শিরোনাম: পিলখানা ট্র্যাজেডির ১৭ বছর পর পেনড্রাইভ-ল্যাপটপ ইস্যু: নতুন করে প্রশ্নের মুখে পুরনো প্রোপাগান্ডা* চুরি হওয়া মোটরসাইকেল উদ্ধার রাষ্ট্র অচলকারীদের ক্ষমা: এটা কি ক্ষমা নাকি পুরস্কার? ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় আসছে নতুন নীতিমালা: কিউআর কোড ও নির্দিষ্ট রুটে চলবে ইজিবাইক দুই মাস কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পেলেন ছাত্রদল নেতা শহিদুল ইসলাম রামপালের শিশু জোবায়েরের চিকিৎসায় মানবিক সাহায্যের আবেদন বাগেরহাটে একই পরিবারের তিনজনকে হত্যা: রহস্য উদ্ঘাটন, গ্রেপ্তার ৩ র‌্যাব ও সেনাবাহিনীর কর্নেল পরিচয়ে প্রতারণা এবং এক স্কুল ছাত্রত্রীকে ধর্ষণ, খুলনার পারভেজ মোংলায় গ্রেপ্তার “রুচির দুর্ভিক্ষ” নাকি “তৈলাক্ত বাঁশের রিলে রেস”? তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির পদায়ন নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা

মোবাইল খুললেই জুয়ার বিজ্ঞাপন—ডিজিটাল প্রজন্মকে আমরা কোন পথে ঠেলে দিচ্ছি?

M,A Salam / ৩০ ০০ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: রবিউল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার

 

স্মার্টফোন এখন আর শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়; শিক্ষা, বিনোদন, ব্যবসা থেকে শুরু করে দৈনন্দিন জীবনের প্রায় সবকিছুই এখন ডিজিটাল পর্দাকেন্দ্রিক। কিন্তু উদ্বেগের বিষয় হলো—মোবাইল হাতে নিলেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিভিন্ন ওয়েবসাইট কিংবা অ্যাপের ফাঁকে ফাঁকে চোখে পড়ছে অনলাইন জুয়ার বিজ্ঞাপন।

ক্রিকেট ম্যাচ দেখছেন—জুয়ার বিজ্ঞাপন।
ভিডিও দেখতে গেছেন—জুয়ার বিজ্ঞাপন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম স্ক্রল করছেন—জুয়ার প্রচারণা।

মনে হচ্ছে, ডিজিটাল বিশ্বের প্রতিটি অলিগলিতে এখন জুয়ার হাতছানি।

সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো, এসব বিজ্ঞাপনের বড় একটি অংশ তরুণ ও কিশোরদের চোখের সামনেই পৌঁছে যাচ্ছে। চকচকে গ্রাফিক্স, দ্রুত টাকা আয়ের প্রলোভন, সহজে জেতার গল্প এবং আকর্ষণীয় অফারের মাধ্যমে জুয়াকে উপস্থাপন করা হচ্ছে বিনোদন কিংবা আয়ের সহজ মাধ্যম হিসেবে।

প্রশ্ন হলো—আমরা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কী ধরনের ডিজিটাল পরিবেশ তৈরি করে যাচ্ছি?

একদিকে পরিবার সন্তানকে সততা, পরিশ্রম ও নৈতিকতার শিক্ষা দিতে চায়। অন্যদিকে সেই সন্তান যখন মোবাইল খুলেই দেখে—অল্প সময়ে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন, কয়েক মিনিটে টাকা দ্বিগুণ করার প্রলোভন—তখন বাস্তব জীবনের শিক্ষা আর ডিজিটাল বাস্তবতার মধ্যে তৈরি হয় ভয়ংকর দ্বন্দ্ব।

অনলাইন জুয়া শুধু অর্থ হারানোর বিষয় নয়। এটি মানুষকে দ্রুত লাভের নেশায় অভ্যস্ত করে, পরিশ্রমবিমুখ মানসিকতা তৈরি করতে পারে এবং পরিবার ও সমাজে নানা ধরনের সংকট সৃষ্টি করতে পারে।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—এই বিজ্ঞাপনগুলো এত সহজে আমাদের মোবাইল ফোনে পৌঁছে যাচ্ছে কীভাবে?

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর বিজ্ঞাপন নীতিমালা, অবৈধ অনলাইন জুয়ার সাইট নিয়ন্ত্রণ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা বন্ধ এবং আইন প্রয়োগ—সবকিছুতেই কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। শুধু মাঝে মাঝে কিছু ওয়েবসাইট বন্ধ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। কারণ প্রযুক্তির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকেও আধুনিক ও শক্তিশালী করতে হবে।

অভিভাবকদেরও সচেতন হতে হবে। সন্তান সারাদিন মোবাইলে কী দেখছে, কোন ধরনের অ্যাপ ব্যবহার করছে কিংবা কী ধরনের বিজ্ঞাপনের সংস্পর্শে আসছে—সেদিকেও নজর দেওয়া জরুরি।

আজকের শিশু ও কিশোররাই আগামী দিনের বাংলাদেশ পরিচালনা করবে। কিন্তু তাদের ডিজিটাল পরিবেশ যদি জুয়া, দ্রুত অর্থ উপার্জনের প্রলোভন এবং অনৈতিক বিনোদনে ভরে যায়, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে আমরা আসলে কী শিক্ষা রেখে যাচ্ছি?

মোবাইল খুললেই যদি জুয়ার হাতছানি থাকে, তাহলে জাতি যাবে কোন পথে?

সময় এসেছে শুধু উদ্বেগ প্রকাশের নয়, কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার। কারণ একটি প্রজন্ম নষ্ট হওয়ার পর আফসোস করে কোনো লাভ নেই।

জুয়াকে বিনোদন নয়, সামাজিক বিপদ হিসেবে দেখতে হবে।
ডিজিটাল নিরাপত্তা শুধু তথ্যের নিরাপত্তা নয়—ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মানসিক ও নৈতিক নিরাপত্তাও।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা