আকোটেরচর ইউনিয়ন, সদরপুর, ফরিদপুর
একটি ভুল ধারণা, একটি ভুল সিদ্ধান্ত—চিরতরে থামিয়ে দিতে পারে একটি জীবন।
দাঁড়াশ ভেবে ধরেছিলেন সাপটি… কয়েক ঘণ্টা পরেই নিভে গেল একটি প্রাণ!
চায়না দুয়ারি জাল থেকে সাপ উদ্ধার করতে গিয়ে ওয়ালস ক্রেইটকে দাঁড়াশ ভেবে ধরতে গিয়ে ছোবল—মর্মান্তিক মৃত্যু আলমগীর ওঝার।
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার আকোটেরচর ইউনিয়নের এই ঘটনাটি আবারও মনে করিয়ে দিল—সাপ সম্পর্কে ভুল ধারণা এবং চিকিৎসা নিতে দেরি, দুটোই প্রাণঘাতী হতে পারে।
জানা যায়, চায়না দুয়ারি জালে একটি সাপ আটকে ছিল। সাপটি উদ্ধার করতে যান আলমগীর ওঝা, যিনি স্থানীয়ভাবে ছত্তার ওঝার ছেলে হিসেবে পরিচিত। তিনি সাপটিকে দাঁড়াশ সাপ মনে করেছিলেন। কিন্তু সেটি ছিল ওয়ালস ক্রেইট (কালাচ/মাছুয়াআলা/কালি দাঁড়াশ)। সাপটিকে ধরতে গিয়ে তিনি ছোবলের শিকার হন।
এরপর ঘটে আরও হৃদয়বিদারক ঘটনা।
সাপে কামড়ানোর পরও আলমগীরকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়নি। তার বাবা, যিনি নিজেও একজন ওঝা, নিজের ছেলেকেই ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে বিষ নামানোর চেষ্টা করেন। একজন বাবা বিশ্বাস করেছিলেন, হয়তো তিনি তার সন্তানকে বাঁচাতে পারবেন।
কিন্তু বাস্তবতা হলো—বিষধর সাপের বিষ ঝাড়ফুঁক করে শরীর থেকে বের করা সম্ভব নয়।
এভাবেই একের পর এক মূল্যবান সময় পার হয়ে যায়। যখন আলমগীরের শারীরিক অবস্থার গুরুতর অবনতি ঘটে, তখন তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে।
একজন বাবা তার ছেলেকে বাঁচানোর শেষ চেষ্টা করেছিলেন, অথচ ভুল ধারণা আর সময় নষ্টের কারণে হারিয়ে গেল একটি জীবন।

এই ঘটনাটি কোনো একজন আলমগীরের গল্প নয়, এটি আমাদের সমাজের একটি বাস্তব চিত্র।
আজও অনেক মানুষ মনে করেন, সাপে কামড়ালে ওঝার কাছে গেলে বিষ নেমে যায়। অথচ বাংলাদেশে বিষধর সাপের কামড়ে কার্যকর চিকিৎসা হলো—দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যান্টিভেনমসহ চিকিৎসা গ্রহণ করা।
বিশেষ করে ওয়ালস ক্রেইট (কালাচ/মাছুয়া আলদ)-কে অনেক সময় দাঁড়াশ বা অন্য কোনো নিরীহ সাপ ভেবে ভুল করা হয়। তাই সাপ না চিনে কখনোই ধরতে যাবেন না।