সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের একটি খালে বিষ দিয়ে মাছ ধরে নিয়ে যাওয়ার সময় নৌকাভর্তি মাছসহ দুই জেলেকে আটক করেন স্থানীয় গ্রামবাসী। তবে পরে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের হুমকির মুখে আটক জেলেদের মাছ ও নৌকাসহ ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৩০ আগস্ট) দুপুরে মোংলা উপজেলার সুন্দরবন ইউনিয়নের গোড়াবুড়বুলিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে, ঘটনার তদন্তে রবিবার পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে পূর্ব সুন্দরবন বিভাগ। কমিটিকে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে বিষ দিয়ে মাছ ধরার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও থেকে জানা যায়, ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত তিন মাস সুন্দরবনে মাছ আহরণ নিষিদ্ধ রয়েছে। এ নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বাগেরহাটের মোংলা ও রামপালের একটি প্রভাবশালী চক্র গোপনে সুন্দরবনে প্রবেশ করে বিষ ও চার ব্যবহার করে মাছ ও কাঁকড়া আহরণ করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার দুপুর ১টার দিকে সুন্দরবন থেকে বিষ দিয়ে মাছ আহরণ করে নৌকায় করে নিয়ে যাওয়ার সময় বনসংলগ্ন গ্রামের বাসিন্দারা মোংলা উপজেলার সুন্দরবন ইউনিয়নের গোড়াবুড়বুলিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ২০০ কেজি মাছ, একটি নৌকা ও দুই জেলেকে আটক করেন।
আটক দুই জেলে হলেন—মোংলার সুন্দরবন ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মুহিদুল হাওলাদার এবং চিলা ইউনিয়নের নাঈম শেখ।
বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ ধরার একটি ভিডিও ফুটেজ তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখেছেন। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখার জন্য শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. শরিফুল ইসলামকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। রবিবার গঠিত কমিটিকে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
ডিএফও বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।