চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে কৃষকদের জন্য সংরক্ষিত সরকারি সার চুরি ও বৃষ্টির পানিতে সার নষ্ট হওয়ার ঘটনায় সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আনিছুর রহমানকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁকে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসে অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবদুর রহিম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে। আদেশ অনুযায়ী, বিসিএস (কৃষি) ক্যাডারের কর্মকর্তা আনিছুর রহমানকে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা থেকে বদলি করে কালিগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসে অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দায়িত্ব হস্তান্তর না করলে তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত (স্ট্যান্ড রিলিজ) হিসেবে গণ্য করা হবে।
একই আদেশে যশোরের মনিরামপুর উপজেলা কৃষি অফিসের অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা শারমীন শাহানাজকে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
এদিকে সরকারি সারের চালান চুরি ও নষ্ট হওয়ার ঘটনা তদন্তে উচ্চপর্যায়ের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা ইতিমধ্যে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছেন। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আরও প্রশাসনিক ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট দপ্তর সূত্রে জানা যায়, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে উন্মুক্ত স্থানে কৃষকদের জন্য সংরক্ষিত ৫৩ বস্তা সার দুই দফায় চুরি হয়। এ ছাড়া বৃষ্টির পানিতে ভিজে আরও অন্তত ২০ বস্তা সার নষ্ট হয়ে যায়।
সরকারি সার চুরি ও নষ্ট হওয়ার বিষয়টি নিয়ে ভিডিও ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণসহ প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। এতে সরকারি সম্পদ সংরক্ষণে কৃষি বিভাগের অব্যবস্থাপনা এবং কৃষকদের ভোগান্তির বিষয়টি উঠে আসে। এরপরই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।