খুলনায় মালয়েশিয়ায় উচ্চ বেতনে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ১৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মো. পলাশ আলী নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পরে আদালতে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।
গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টা ৪৫ মিনিটে ময়মনসিংহ সদর থানার গোলপুকুরপাড় এলাকার কর অঞ্চল ভবন থেকে পলাশ আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পিবিআই খুলনা সূত্রে জানা যায়, খুলনার লবণচরা থানার ঠিকরাবাদ এলাকার বাসিন্দা আলাউল কবির খাঁর সঙ্গে পবিত্র মজুমদারের মাধ্যমে পলাশ আলীর পরিচয় হয়। পলাশ আলাউল কবিরকে জানান, তিনি ভালো বেতনে লোকজনকে মালয়েশিয়ায় চাকরির ব্যবস্থা করে দিতে পারেন। এ প্রস্তাবে আলাউল কবির তাঁর ছয়জন নিকটাত্মীয়কে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর উদ্যোগ নেন।
পলাশ প্রত্যেককে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর জন্য ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ভিসা ও অন্যান্য কাগজপত্র তৈরির জন্য অগ্রিম টাকা দাবি করেন। এরপর বিভিন্ন সময়ে ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে পলাশকে মোট ১৭ লাখ টাকা দেন আলাউল কবির।
পিবিআইয়ের ভাষ্য, পরে চাকরিপ্রার্থীদের ঢাকায় নিয়ে মেডিকেল পরীক্ষা করানো হয়। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে তাঁদের মালয়েশিয়ায় পাঠানোর আশ্বাসও দেওয়া হয়। তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও তাঁদের বিদেশে পাঠানো হয়নি। এ নিয়ে পলাশ বিভিন্নভাবে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন।
গত ১৫ আগস্ট পলাশ আলাউল কবিরের বাড়িতে গিয়ে জানান, চাকরিপ্রার্থীদের মালয়েশিয়ায় পাঠানো সম্ভব হবে না এবং নেওয়া টাকাও ফেরত দিতে পারবেন না। এরপর আলাউল কবির লবণচরা থানায় পলাশ আলীসহ দুজনের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা করেন। ২৩ আগস্ট করা ওই মামলায় দণ্ডবিধির ৪০৬ ও ৪২০ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলাটি পিবিআইয়ের তফসিলভুক্ত হওয়ায় পিবিআই সদর দপ্তরের সিদ্ধান্তে খুলনা জেলা পিবিআই তদন্তভার নেয়। পিবিআই খুলনার পুলিশ সুপার রেশমা শারমিনের তত্ত্বাবধানে মামলাটির তদন্ত করছেন উপপরিদর্শক (এসআই) মো. হাবিবুর রহমান।
পিবিআই জানায়, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পলাশের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে পিবিআই খুলনার একটি দল ময়মনসিংহে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
পিবিআইয়ের তদন্ত ও গ্রেপ্তার হওয়া আসামির জবানবন্দি থেকে জানা গেছে, মালয়েশিয়ায় উচ্চ বেতনে চাকরি দেওয়ার কথা বলে পলাশ আলাউল কবিরের কাছ থেকে তাঁর নিকটাত্মীয়দের বিদেশে পাঠানোর জন্য ১৭ লাখ টাকা নেন। পরে তাঁদের মালয়েশিয়ায় না পাঠিয়ে ওই অর্থ আত্মসাৎ করা হয় বলে পিবিআইয়ের দাবি।
পিবিআই খুলনার পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন বলেন, আর্থিক স্বচ্ছলতার সুযোগ নিয়ে উচ্চ বেতনে চাকরির মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে অর্থ আত্মসাৎকারীদের বিরুদ্ধে পিবিআই জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। এ ধরনের অপরাধ দমনে অভিযান অব্যাহত থাকবে।