• রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ১০:২০ অপরাহ্ন
Headline
মৎস্য সম্পদ উন্নয়নে গবেষণা অগ্রগতির কোনো বিকল্প নেই নাজমুল হুদা চৌধুরী সাগরের রোগমুক্তি কামনায় খুলনায় দোয়া অনুষ্ঠিত নতুন কুড়িঁ স্পোর্টস (সিজন-২) উপলক্ষ্যে মতবিনিময় সভায় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী খুলনায় নারীকে গুলি করে হত্যা বাগেরহাটে জমি বিরোধে যুবককে কুপিয়ে জখমের অভিযোগ, ভাঙচুর ও টাকা লুটের দাবি সংখ্যালঘু নয় ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতির কয়রা প্রতিষ্ঠায় কাজ করছি বাড়ির বারান্দার রেলিংয়ে এই ৩টি ভুল আপনার শিশুর জন্য বিপদ ডেকে আনতে পারে! সুন্দরবনে ২৫০ টন ইন্দোনেশিয়ার চোরাই কয়লা বোঝাই বাল্কহেড কার্গো জাহাজসহ আটক-৯ সুন্দরবন ছেড়ে লোকালয়ে বাঘ,পায়ের ছাপ দেখে গ্রামবাসী আতংতিক!এলাকায় মাইকিং তেলের দাম নিয়ে ফেসবুকে মন্তব্য, বাগেরহাটে দল থেকে বিএনপি নেতাকে বহিষ্কার

বাইকারদের অবস্থা, শখের রাইড নাকি আইনি হয়রানির গোলকধাঁধা?

M.A Salam ( Babu) / ২৫০ ০০ Time View
Update : সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

_রবিউল ইসলাম রবি মল্লিক, স্টাফ রিপোর্টার, খুলনা ভিশন

শহর থেকে মফস্বল—সবখানেই এখন বাইকারদের একটাই আক্ষেপ। দুই চাকার শখের বাহনটি কি তবে অপরাধের প্রতীক হয়ে উঠলো? রেজিস্ট্রেশন, ট্যাক্স টোকেন, ড্রাইভিং লাইসেন্স থেকে হেলমেট—প্রতি পদে কাগজের পাহাড় সামলাতে গিয়ে নাভিশ্বাস উঠছে সাধারণ রাইডারদের।

রাইডারদের অভিযোগ: আইন নয়, হয়রানি

বাইকারদের মূল ক্ষোভ জরিমানার পরিমাণ ও প্রক্রিয়ার জটিলতা নিয়ে। সড়ক পরিবহন আইনে বর্তমানে ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকলে সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা জরিমানা ও ৬ মাসের জেল, রেজিস্ট্রেশন ছাড়া বাইক চালালে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও ৬ মাস জেল, ট্যাক্স টোকেনের মেয়াদ না থাকলে ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও বাইক জব্দের বিধান রয়েছে। নকল কাগজে ৫ লক্ষ টাকা জরিমানা ও ২ বছর পর্যন্ত জেল, আর হেলমেট না পরলে ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও ৩ মাস জেল হতে পারে।

“সাবান কিনলে ভ্যাট আগেই কাটে, তাহলে বাইকের ট্যাক্সের জন্য কেন বারবার কাগজ নিয়ে ঘুরতে হবে?”—এই প্রশ্ন এখন লাখো বাইকারের।

কাগজ জটিলতার পাশাপাশি বিআরটিএর লাইসেন্সের জিগজ্যাগ টেস্ট নিয়েও তীব্র ক্ষোভ। রাইডারদের দাবি, বাস্তব রাস্তার সাথে এর কোনো মিল নেই। “এটা পরীক্ষা না, তামাশা। আইনপ্রণেতারাও প্রথমবারে পাস করতে পারবেন না”—বলছেন তারা।

এর সাথে যুক্ত হয়েছে রাস্তায় হয়রানির অভিযোগ। ফগ লাইট, হর্ন পরিবর্তন, শখের স্টিকার বা রঙ বদলালেই মামলা। সামান্য যান্ত্রিক ত্রুটিতেও ঘুষ লেনদেন ও গণহারে হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ।

কর্তৃপক্ষের যুক্তি: শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার স্বার্থে

তবে ট্রাফিক বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভিন্ন বক্তব্য। তাদের মতে, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো ও দুর্ঘটনা কমাতেই কঠোর আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।

জিগজ্যাগ টেস্টকে তারা চালকের নিয়ন্ত্রণ ও দক্ষতা যাচাইয়ের মাপকাঠি বলছেন। অতিরিক্ত আলো ও অবৈধ মডিফিকেশন অন্য চালকদের বিভ্রান্ত করে—তাই নিরাপত্তার স্বার্থেই তা নিষিদ্ধ।

ট্রাফিক পুলিশের দাবি, আইন ভাঙলে নিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। হয়রানি বা ঘুষের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে বিভাগীয় ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।

সমাধান কী?

দুই পক্ষের অবস্থান বিপরীতমুখী হলেও রাইডারদের দাবি একটাই—আইন জননিরাপত্তার জন্য হোক, হয়রানির জন্য নয়। তারা অযৌক্তিক ধারা সংশোধন ও হয়রানি বন্ধের দাবিতে সংঘবদ্ধ প্রতিবাদের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

আইন কঠোর হবে, তবে তা যেন সহজ, স্বচ্ছ ও বাস্তবসম্মত হয়—এখন সেটাই সময়ের দাবি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা