*খুলনা ভিশন*
*স্টাফ রিপোর্টার: রবিউল ইসলাম
*ঢাকা:* দেশে ব্যাটারি চালিত অটো রিক্সা বন্ধের বিপরীতে এবার প্যাডেল রিক্সা বন্ধ এবং প্রাইভেট কার নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়ে সরকারকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। গত ১ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান মামুন এ নোটিশ পাঠান।
নোটিশে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, সড়ক পরিবহন ও সেতু সচিব, পরিবেশ সচিব, বিআরটিএ চেয়ারম্যান এবং এনবিআর চেয়ারম্যানকে বিবাদী করা হয়েছে। এতে আগামী ১০ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়ে গৃহীত ব্যবস্থা জানাতে বলা হয়েছে। অন্যথায় সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হবে বলেও উল্লেখ করা হয়।
নোটিশে বলা হয়, দেশের মাত্র ১ শতাংশের কম মানুষ প্রাইভেট কার ব্যবহার করেন। অথচ এই সামান্য সংখ্যক গাড়িই সড়কের সিংহভাগ জায়গা দখল করে রাখছে। বিপুল পরিমাণ জ্বালানি আমদানির কারণে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও সরকারি ভর্তুকির ওপর চাপ বাড়ছে। পাশাপাশি এসব গাড়ি থেকে নির্গত ধোঁয়া চরম বায়ু দূষণ ঘটিয়ে জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি তৈরি করছে, যা সংবিধান স্বীকৃত জীবনের অধিকারের পরিপন্থী।
এছাড়া চরম দারিদ্র্যের কারণে প্রান্তিক মানুষ প্যাডেল রিক্সা চালাতে বাধ্য হচ্ছেন। এটি তাদের অকাল বার্ধক্য ও স্থায়ী শারীরিক ক্ষতির কারণ। সংবিধানের ৩৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জবরদস্তিমূলক শ্রম নিষিদ্ধ হওয়ায় অবিলম্বে প্যাডেল রিক্সা বন্ধের দাবি তোলা হয়েছে। নোটিশে প্যাডেল চালিত রিক্সাকে ‘আধুনিক দাসত্ব’ হিসেবে অভিহিত করা হয়।
আইনজীবী মাহমুদুল হাসান মামুনের দাবি, দেশের ৯৯ শতাংশ সাধারণ মানুষ গণপরিবহন ও ব্যাটারি চালিত রিক্সার ওপর নির্ভরশীল। তাই এই সেক্টর নিষিদ্ধ না করে বরং গতি, ব্রেকিং সিস্টেম ও কাঠামোগত নিরাপত্তার জন্য বৈজ্ঞানিক নীতিমালা প্রণয়ন করা উচিত।
বর্তমানে রাজধানীসহ সারাদেশে ব্যাটারি রিক্সা বন্ধের আলোচনার মধ্যেই এই নোটিশ নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। রিক্সা শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের জীবিকার বিষয়টি কিভাবে সমাধান হয় সেদিকে তাকিয়ে আছে সবাই।