আবু-হানিফ,বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ
সুন্দরবনে বনরক্ষীদের নিবিড় পর্যবেক্ষণের ফলে উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে বনজ সম্পদ ধ্বংসকারী চক্র ও চোরা শিকারিদের অপতৎপরতা। কমেছে হরিণসহ বন্যপ্রাণী শিকার ও বিষ দিয়ে মাছ ধরা। এখন সুন্দরবন সংলগ্ন লোকালয়ে হচ্ছে না হরিণের মাংস বিক্রি। প্রাণ ফিরেছে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যে।
সুন্দরবন বিভাগের পরিসংখ্যান ও মাঠপর্যায়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৫ মাস আগে সুন্দরবনের আশপাশে লোকালয়ে গরু বা খাসির মাংসের তুলনায় কম দামে বিক্রি হতো হরিণের মাংস। এমনকি চামড়াসহ হরিণ নিয়ে শহরের ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করত চোরা শিকারিরা। এখন পাল্টেছে সেই চিত্র। বন অপরাধীদের দৌরাত্ম্য অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
চলতি বছর সুন্দরবন পূর্ব বিভাগে বিষ দিয়ে মাছ শিকার, বন্যপ্রাণী বিশেষ করে হরিণ শিকারও কমেছে।
চলতি বছর সুন্দরবনে প্রবেশ নিষিদ্ধ তিন মাসে (জুন, জুলাই ও আগস্ট) হরিণ শিকার রোধে বড় সফলতা এসেছে। এ সময়ে কোনো হরিণের মাংস, চামড়া বা মৃত হরিণ উদ্ধার হয়নি। একই সময়ে জব্দ করা হয়েছে হরিণ শিকারিদের পেতে রাখা ১৪ হাজার ৩৮১ ফুট মালা ফাঁদ, ১১০টি ছিটকা ফাঁদ, ৪৬ ফুট হাটা ফাঁদ ও ৬৯টি ডোয়া ফাঁদ।
পাশাপাশি দুটি নৌকা ও তিনটি ট্রলারও আটক করা হয়।
গত বছরে এই সময়ে পূর্ব সুন্দরবন বিভাগে ২০টি মামলায় ১২ জন শিকারিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তখন ১৫৬ দশমিক ৫ কেজি হরিণের মাংস, পাঁচটি মাথা, আটটি পা, দুটি চামড়া ও দুটি মৃত হরিণ উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া ওই সময়ে ফাঁদের পরিমাণও ছিল বহুগুণ বেশি।
সুন্দরবন সুরক্ষায় পাঁচ জেলার সাংবাদিকদের সংগঠন ‘সুন্দরবন সাংবাদিক ফোরাম’র সভাপতি মনিরুজ্জামান নাসিম আলী জানান, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যে আগের চেয়ে ভালো আছে।
বিশেষ করে পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বনাঞ্চল এক বছরের অধিক সময়ে সার্বক্ষণিক নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকায় বন অপরাধ উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। বনজ সম্পদ ধ্বংসকারী চক্র বিশেষ করে চোর শিকারি ও বিষ দিয়ে মাছ ধরা প্রায় বন্ধ হয়েছে। পশ্চিম বিভাগও সার্বক্ষণিক নজরদারিতে আনতে হবে। পাশাপাশি দ্রুত বনরক্ষীদের শূন্য পদ পূরণ, দ্রুতগতির নৌযানের ব্যবস্থা, আরও অধিক ড্রোন, জেলে-বনজীবীদের নৌযানে জিপিএস ট্র্যাকিংয়ের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ‘বন্যপ্রাণী ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় বন বিভাগ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সোচ্চার ও প্রযুক্তিনির্ভর। পূর্ব সুন্দরবন বিভাগে দুর্গম বনাঞ্চলে বনরক্ষীরা নিয়মিত ফুট প্যাট্রলিং, স্মার্ট প্যাট্রলিং, বোট প্যাট্রলিংসহ দিন-রাত ঝটিকা অভিযান ও আধুনিক ড্রোন উড়িয়ে নিবিড় নজরদারি পরিচালনা করছি। ##