বটিয়াঘাটা উপজেলা প্রতিনিধি: খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার গাওঘরা মৌজায় পৈতৃক সূত্রে পাওয়া জমি নিয়ে বিরোধ, গাছ কাটার চেষ্টা এবং নিজেদের জমিতে ঘেরাবেড়া দিতে বাধা ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বেলা ১২টার দিকে দৈনিক জন্মভূমির নিজস্ব কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মোজাফ্ফার ঢালী, হাবিবুর ঢালী ও মো. আলভিদ্দিনসহ ভুক্তভোগীরা এসব অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তারা জানান, বটিয়াঘাটার গাওঘরা মৌজায় বিএস ২৩ ও এসএ ১০১ নম্বর খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন দাগ এবং আরএস ৭৮৩ নম্বর খতিয়ানের ১৯৯২ ও ১৯৯৫ নম্বর দাগে তাদের প্রায় ২৭ শতক জমি রয়েছে। তাদের দাবি, ১৯৬০ সালে তাদের বাবা মরহুম সিরাজউদ্দিন ঢালী দলিলের মাধ্যমে ওই জমি ক্রয় করেন। এরপর থেকে দীর্ঘদিন ধরে তারা জমিটি ভোগদখল করে আসছেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গত ৭ মার্চ তাদের জমির পাশের একটি জায়গায় আব্দুল খালেক মোড়ল, মোকছেন মোড়ল ও বাবু জমাদ্দারসহ কয়েকজন জোরপূর্বক গাছ কাটার চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে এতে বাধা দেন। পরে বিষয়টি নিয়ে আইনের আশ্রয় নেন তারা।
তাদের আরও অভিযোগ, গত ১০ আগস্ট নিজেদের জমিতে ঘেরাবেড়া দেওয়ার সময় অভিযুক্তরা তাদের অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং ঘেরাবেড়া দিতে বাধা দেন। পরে তারা নিজেদের জমিতে ঘেরাবেড়া দিয়ে দখল বজায় রাখেন।
লিখিত বক্তব্যে ভুক্তভোগীরা জানান, জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়ে গত ৮ আগস্ট বটিয়াঘাটা থানায় সালিশ-মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেখানে উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হয়। তবে এরপরও বিবাদীপক্ষ বিভিন্নভাবে হয়রানি ও ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ করেন তারা। এতে নিজেদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন ভুক্তভোগীরা।
সংবাদ সম্মেলনে তারা প্রশাসন, ভূমি অফিস ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে জমির মালিকানা ও দখল সংক্রান্ত কাগজপত্র যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। একই সঙ্গে তদন্তে কোনো পক্ষ বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িত প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।