বিপুল অঙ্কের লোকসানের বৃত্তেই আটকে আছে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (মে মাস পর্যন্ত) প্রতিষ্ঠানটি করসহ মাত্র সাড়ে ৮ কোটি টাকা আয় করলেও, একই সময়ে তাদের খরচের খাতা ছাড়িয়েছে আড়াইশ কোটি টাকার ঘর। আজ সোমবার জাতীয় সংসদে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছেন।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন শুরু হলে প্রশ্নোত্তর পর্বটি টেবিলে উপস্থাপন করা হয়। এ সময় নওগাঁ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হুদার এক প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বিটিভির এই বিশাল আয়-ব্যয়ের অমিলের হিসাব তুলে ধরেন।
সংসদে বিটিভির গত পাঁচ অর্থবছরের (২০২০-২১ থেকে ২০২৪-২৫) একটি তুলনামূলক আয়-ব্যয়ের খতিয়ানও চিত্রিত করা হয়। মন্ত্রীর পেশ করা সেই পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিগত বছরগুলোতেও বিটিভির আয় ও ব্যয়ের ব্যবধান ছিল আকাশছোঁয়া।
বিগত ২০২০-২১ অর্থবছরে যেখানে চ্যানেলটির আয় ছিল ৩৪ কোটি ৫ লাখ ৯৯ হাজার টাকা, সেখানে ব্যয় হয়েছিল ২৮০ কোটি ৮১ লাখ ৩৬ হাজার টাকা। পরের অর্থবছর অর্থাৎ ২০২১-২২-এ আয় কিছুটা বেড়ে ৪০ কোটি ২৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা হলেও খরচ দাঁড়ায় ২৮৫ কোটি ৪৭ লাখ ২৭ হাজার টাকায়। ২০২২-২৩ অর্থবছরে আয় কমে হয় ৩০ কোটি ৮৭ লাখ ৮৫ হাজার টাকা, কিন্তু সে বছর ব্যয়ের অঙ্ক লাফিয়ে সর্বোচ্চ ৩৭০ কোটি ৬১ লাখ ৫১ হাজার টাকায় পৌঁছায়।
২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৪৪ কোটি ২১ লাখ ২২ হাজার টাকা আয়ের বিপরীতে ব্যয় হয় ২৯৮ কোটি ৫৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা। আর সদ্য সমাপ্ত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রাষ্ট্রীয় এই গণমাধ্যমটি ২৭ কোটি ৬৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা আয় করতে পারলেও খরচ করে ফেলেছে ৩০৭ কোটি ৯২ লাখ ২২ হাজার টাকা।
সংসদে উপস্থাপিত এই পাঁচ বছরের ধারাবাহিক পরিসংখ্যান স্পষ্ট করে দেয় যে, বছরের পর বছর ধরে আয়ের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি অর্থ ব্যয় করে চলেছে বিটিভি, যার বড় একটি অংশই মেটাতে হচ্ছে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে।