রবিউল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার।
সাতক্ষীরা থেকে কালীগঞ্জ পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় সম্ভাব্য বৈষম্য ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকরা।
জানা যায়, সাতক্ষীরা-সখিপুর-কালীগঞ্জ মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের জমি অধিগ্রহণ করা হয়। জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ শাখা সরকারি বিধি অনুযায়ী জমির শ্রেণি, অবস্থান ও মালিকানার ভিত্তিতে ক্ষতিপূরণের মূল্য নির্ধারণ করে জমির মালিকদের নোটিশ প্রদান করে।
অভিযোগ রয়েছে, জনাব আব্দুল আহাদ ও তাঁর দুই ভাইয়ের অধিগ্রহণকৃত জমির মূল্য পরিশোধ সংক্রান্ত নোটিশ নং ৪১২ গ্রহণের পর ওই জমির মূল্য পুনর্মূল্যায়নের জন্য আবেদন করা হয়। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি একটি নোটিশ প্রদর্শন করে দাবি করেন যে, তাঁর জমির মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে।
তবে প্রশ্ন উঠেছে—কথিত পুনর্মূল্যায়নকৃত নোটিশটি আসল কি না? যদি সেটি সরকারি ও বৈধ নথি হয়, তাহলে কোন আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় শুধুমাত্র নির্দিষ্ট ব্যক্তির জমির মূল্য বৃদ্ধি করা হলো? একই প্রকল্পে একই এলাকার অন্যান্য জমির মালিকরা কি একই সুযোগ পেয়েছেন?
অন্যদিকে, অভিযোগ রয়েছে যে, ওই নথির ভিত্তিতে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলে অন্যান্য জমির মালিকদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে এবং কেউ কেউ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
জনস্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানানো হচ্ছে—
প্রথমত, নোটিশ নং ৪১২ এবং কথিত পুনর্মূল্যায়ন নোটিশের সত্যতা যাচাই করা হোক।
দ্বিতীয়ত, আব্দুল আহাদ ও তাঁর দুই ভাইয়ের জমির প্রাথমিক ও পরবর্তী মূল্যায়নের সম্পূর্ণ নথি প্রকাশ করা হোক।
তৃতীয়ত, একই মৌজা ও একই শ্রেণির জমির অন্যান্য মালিকদের ক্ষতিপূরণের সঙ্গে তুলনামূলক তদন্ত করা হোক।
চতুর্থত, কোনো ব্যক্তি সরকারি নথির অপব্যবহার করে সাধারণ জমির মালিকদের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ বা অর্থ আদায়ের চেষ্টা করে থাকলে বিষয়টি তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
সরকারি ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ায় একজন নাগরিকের জন্য এক নিয়ম এবং অন্য নাগরিকের জন্য ভিন্ন নিয়ম চলতে পারে না। প্রকৃতপক্ষে পুনর্মূল্যায়ন হয়ে থাকলে তার আইনি ভিত্তি জনসমক্ষে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন। আর নথিটি জাল বা বিভ্রান্তিকরভাবে ব্যবহার করা হয়ে থাকলে সেটিও দ্রুত উদঘাটন করা জরুরি।
জনস্বার্থে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন, ভূমি অধিগ্রহণ শাখা, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট দুর্নীতি তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হচ্ছে—বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য জনসমক্ষে প্রকাশ করা হোক।