আমাদের কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের প্রায় ৪২ হাজার প্রান্তিক চাষি মাথার ঘাম পায়ে ফেলে দেশের লবণের চাহিদা মেটান। কিন্তু আজ তারা চরম লোকসানের মুখে। ১ মণ লবণ উৎপাদনে চাষির খরচ হয় ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা। অথচ সিন্ডিকেটের কারসাজিতে তারা সেই লবণ বেচতে বাধ্য হচ্ছেন মাত্র ১৮০-২৪০ টাকায়!
কীভাবে চলছে এই হরিলুট?
✅ আমদানির ফাঁদ: দেশে উদ্বৃত্ত লবণ থাকার পরও একটি অসাধু সিন্ডিকেট চামড়া বা টেক্সটাইল শিল্পের কাঁচামালের (সোডিয়াম সালফেট) নাম করে ভারত থেকে নিম্নমানের লবণ আনছে। বন্ড সুবিধার অপব্যবহার করে এই শিল্প লবণই তারা খাবার লবণ হিসেবে বাজারে ছেড়ে দিচ্ছে!
✅ ডলার পাচার: এই অপ্রয়োজনীয় লবণের পেছনে প্রতি বছর ভারত ও অন্যান্য দেশে চলে যাচ্ছে প্রায় ১২০ থেকে ১৮০ কোটি টাকা!
✅ স্বাস্থ্যঝুঁকি: শিল্পের জন্য আনা এই রাসায়নিক মিশ্রিত লবণ খেয়ে সাধারণ মানুষের কিডনি ও লিভার মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।
অথচ আমাদের সম্ভাবনা কতটা বিশাল?
আমরা যদি আধুনিক ভ্যাকুয়াম ইভাপোরেশন ও মেকানিক্যাল প্রযুক্তি ব্যবহার করি, তবে উপকূলের জমিতেই বছরে ৩৫-৪০ লাখ টন লবণ উৎপাদন সম্ভব। আমাদের চাহিদা মিটিয়ে আমরাই ভারত, নেপাল ও মধ্যপ্রাচ্যে বছরে ১০-১৫ লাখ টন লবণ রপ্তানি করতে পারবো!
তবে আশার কথা হলো, কাস্টমস কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি কঠোর হয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে রাসায়নিক পরীক্ষা ছাড়া লবণের চালান খালাস স্থগিত করেছে। পাশাপাশি চাষিদের জন্য মাত্র ৫% সুদে বিশেষ ঋণ চালু করেছে বিসিক।
শিল্পের আড়ালে খাবার লবণ এনে যারা জনস্বাস্থ্যের ক্ষতি করছে এবং চাষিদের পেটে লাথি মারছে, তাদের কি লাইসেন্স আজীবনের জন্য বাতিল করা উচ ত নয়?