• সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ০২:০১ পূর্বাহ্ন

খুলনা আইনজীবী সমিতিতে ঢুকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দিল আ’লীগ নেতা

STAF REPOTER / ৫ Time View
Update : রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬

খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির হলরুমে ঢুকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ৫নং তেরোখাদা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোল্লা অহিদুজ্জামান ফরিদের বিরুদ্ধে। আদালতের ভেতরে এমন প্রকাশ্য হুমকির ঘটনায় আইনজীবী ও আদালত প্রাঙ্গণে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। অপরদিকে এঘটনায় নিজের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে খুলনা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন আড়ংঘাটা এলাকার বাসিন্দা মোঃ রবিউল ইসলাম মঞ্জু। জিডি সূত্রে জানা গেছে, মোঃ রবিউল ইসলাম মঞ্জু সংশ্লিষ্ট একটি মামলায় আদালত থেকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিনে রয়েছেন। আদালতের নির্দেশানুযায়ী, গত ১৪ মে ২০২৬ (বৃহস্পতিবার) বিকেল আনুমানিক ২টা ৩৫ মিনিটে খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির ১ নম্বর হলরুমে উভয় পক্ষের আইনজীবীদের উপস্থিতিতে একটি আপোস-মিমাংসা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ বৈঠক চলাকালীন এক পর্যায়ে বাদী মোসাঃ নাজমা সুলতানা, তার স্বামী ৫নং তেরোখাদা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোল্লা অহিদুজ্জামান ফরিদ এবং তাদের পুত্র এম. এম নাহিদুজ্জামান মুন্না ও মোঃ লাবিব হোসেনসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩০-৩৫ জন ব্যক্তি উত্তেজিত হয়ে পড়েন। তারা বাদীপক্ষের আইনজীবীর উপস্থিতিতেই আসামিপক্ষের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুল মালেকের ওপর চড়াও হন। জিডিতে আরও উল্লেখ করা হয়, উত্তেজিত বাদীপক্ষ একযোগে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। একপর্যায়ে মোঃ রবিউল ইসলাম মঞ্জুকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেন মোল্লা অহিদুজ্জামান ফরিদ। এরপর তারা অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করতে করতে হলরুম ত্যাগ করে। এই ঘটনার পর আসামিপক্ষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এ সময় উপস্থিত সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোমিনুল ইসলামসহ আরও কয়েকজন আইনজীবী এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানান। অনাকাক্সিক্ষত এই ঘটনার পরপরই উভয় পক্ষের আইনজীবীরা মিমাংসার প্রক্রিয়া স্থগিত ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে নিরাপত্তাজনিত কারণে রবিউল ইসলাম মঞ্জু খুলনা সদর থানায় এই ঘটনা উল্লেখ করে একটি সাধারণ ডায়েরি করলে থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সেটি গ্রহণ করেন। জিডি নং ১১১১, তারিখ: ১৪/০৫/২০২৬। এই বিষয়ে আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোমিনুল হক বলেন, “এর আগে কখনোই আইনজীবী সমিতির বারের ভেতরে ঢুকে কেউ এমন সন্ত্রাসী কর্মকা- চালানোর সাহস পায়নি। বিএনপির এই শাসনআমলে আওয়ামী লীগের একজন নেতা কীভাবে কোর্টের ভেতর ঢুকে প্রকাশ্যে এমন হুমকি দেওয়ার সাহস পান, তা আমার বোধগম্য নয়। তিনি আরও বলেন, “ওই সময় পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, আমার মনে হচ্ছিল আমি এবং আমার সহকর্মীদের এই লোক ও তার দলবল তুলে নিয়ে গিয়ে হত্যা করবে। ওটা সত্যিই একটি থমথমে ও কঠিন পরিস্থিতি ছিল। এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে আমি ইতিমধ্যেই আইনজীবী সমিতিতে লিখিত দরখাস্ত জমা দিয়েছি। খুলনা সদর থানার এস আই সিতাংশু কুমার বলেন, জিডির বিষয়টি আমলে নিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালত তদন্তের নির্দেশ দিলে আমরা কার্যক্রম শুরু করব।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা