আবু-হানিফ,বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ
বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার রাড়ীপাড়া ইউনিয়নের কাকার বিল এলাকায় কালভার্ট নির্মাণের চার মাস পেরিয়ে গেলেও তৈরি হয়নি সংযোগ সড়ক। ফলে কালভার্ট থাকলেও তাতে ওঠার কোনো পথ নেই। এক পাশে কিছু বালু ফেলা হলেও অন্য পাশে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি। বিকল্প পথ না থাকায় প্রতিদিন পানির মধ্য দিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে পাঁচ গ্রামের প্রায় দেড় হাজার মানুষকে।
সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে স্কুলশিক্ষার্থী, শিক্ষক, নারী ও বয়স্করা।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, মধ্যম তেলিগাতি-মালমগাছা-ব্রাহ্মণকাঠি-কাকারবিল সড়কের চেইনেজ ৩১৪৯ মিটারে ৫ মিটার ৩ দশমিক ৫০ মিটার আরসিসি বক্স কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এ প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ২৮ লাখ ২৯ হাজার ৮০১ টাকা।
স্থানীয়রা জানান, বৌ বাজার থেকে চুচড়ামারি খাল পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার সড়কের চেইনেজ ৩১৪৯ মিটারে কালভার্টটি নির্মাণ করা হলেও এর দুই পাশে এখনো সংযোগ সড়ক তৈরি হয়নি।
ফলে নির্মাণের পরও কালভার্টটি কার্যত ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে আছে।
কাকার বিল, খাড়াসম্বল, চুচড়ামারি, মালমগাছা, ঢুলিগাতী ও বৈলতলীসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষ এ সড়ক ব্যবহার করেন। প্রতিদিন প্রায় এক থেকে দেড় হাজার মানুষ এ পথে চলাচল করেন। একই এলাকায় রয়েছে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মসজিদ।
কালভার্টে ওঠার ব্যবস্থা না থাকায় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের কোমরসমান পানি পেরিয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হচ্ছে।
তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী তানহা বলে,প্রতিদিন স্কুলে যেতে হয়। কালভার্ট তৈরি হলেও আমরা উঠতে পারি না। পাশের খাল পার হয়ে যেতে হয়। মা আমাকে প্রতিদিন স্কুলে নিয়ে যান এবং নিয়ে আসেন।
দ্রুত রাস্তা সংস্কার করে কালভার্টের দুই পাশে বালু দিয়ে ভরাট করে ওঠার ব্যবস্থা করা হলে আমরা সহজে স্কুলে যেতে পারতাম।
একই শ্রেণির শিক্ষার্থী তোবা বলে‘আমরা এই খাল পার হতে পারি না। খুব কষ্ট হয়। স্কুলে যেতেও ভিজতে হয়, আসতেও ভিজতে হয়। আমরা দ্রুত এর সমাধান চাই।
স্থানীয় বাসিন্দা সাবিনা আক্তার বলেন, ‘আমার দুই ছেলে-মেয়ে স্কুলে পড়ে। একজনকে সকাল ৯টায় স্কুলে দিয়ে আসতে হয়, আরেকজনকে দুপুর ১২টায়। দিনে চারবার আমাকে এই পানির মধ্য দিয়ে যাওয়া-আসা করতে হয়। কিছুদিন আগে এখান থেকে পড়ে গিয়ে সন্তানের বইও পানিতে ভিজে গেছে। আমরা দ্রুত রাস্তা ও কালভার্টের সংযোগস্থল সংস্কার চাই।
স্থানীয় বাসিন্দা জাকির হোসেন বলেন, এই কালভার্ট দিয়ে পাঁচ গ্রামের মানুষ চলাচল করে। বাজারে যেতে হলেও এই কালভার্ট পার হতে হয়। নির্মাণের প্রায় চার মাস হয়ে গেলেও ঠিকাদারকে বারবার বলেও কোনো কাজ হচ্ছে না। কালভার্ট নির্মাণের সময় বিকল্প চলাচলের ব্যবস্থা থাকার কথা। কিন্তু এখানে ঠিকাদার কোনো বিকল্প রাস্তা করেননি।
তিনি আরও বলেন, বাধ্য হয়ে স্থানীয়রা নিজেদের উদ্যোগে বাড়ির ভেতর দিয়ে একটি অস্থায়ী পথ তৈরি করেছেন। সেই পথ দিয়েই স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সবাই চলাচল করছে। পানি অনেক সময় মাজা পর্যন্ত উঠে যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কালভার্ট নির্মাণের সময় পর্যাপ্ত বিকল্প চলাচলের ব্যবস্থা না থাকায় নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পরও দুর্ভোগ কমেনি। বরং বর্ষায় পানি বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়েছে। কালভার্টের দুই পাশে দ্রুত মাটি ও বালু দিয়ে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে নিরাপদ চলাচলের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে ঠিকাদার মো. জালাল খান বলেন, আমি ঢাকায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় কাজে কিছুটা দেরি হয়েছে। দ্রুত বাগেরহাট গিয়ে কাজটি শেষ করে দেব। নতুন করে রাস্তার কাজ শুরু হয়েছে। রাস্তার কাজ শেষ হলেই আমরা মাটি দেওয়ার ব্যবস্থা করব। এছাড়া কিছুদিনের মধ্যে গ্রামবাসী ও শিক্ষার্থীদের চলাচলের জন্য একটি সাঁকো নির্মাণ করা হবে। সেখান থেকে মাটি এনে কালভার্টের দুই পাশে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
বাগেরহাট এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মঞ্জুর রশিদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।