• বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ০২:১৩ অপরাহ্ন

(গোটা সুন্দরবন বনদস্যুদের নিয়ন্ত্রণে) সুন্দরবনে ২০ বনদস্যু বাহিনীর দাপট, বনদস্যুদের তৎপরতায় আবারও অশান্ত হয়ে উঠেছে ওয়ার্ল্ড হ্যারিটেজ সাইড বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ সুন্দরবন,জেলে, বনজীবীদের মাঝে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক। ফলে বিরূপ প্রভাব পড়ছে অর্থনীতিতে

খুলনা ভিশন ডেক্স । বাবু / ২৫০ Time View
Update : সোমবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২৫

আবু হানিফ, বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ

সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত ঘোষণার ৬ বছরের মাথায় আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে বনদস্যুরা। নতুন করে বনদস্যুদের তৎপরতায় অশান্ত হয়ে উঠেছে ওয়ার্ল্ড হ্যারিটেজ সাইড বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন। পুরনো আত্মসমর্পণকারী এবং নতুন ভাবে সংগঠিত দল মিলে অন্তত ২০টি বনদস্যু বাহিনী এখন সক্রিয়। এসব বনদস্যু দল জেলেদের অপহরণ করে আদায় করছে লাখ লাখ টাকা মুক্তিপণ। এতে জেলে, বনজীবীদের মাঝে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক। ফলে সুন্দরবন ও বঙ্গোপসাগর উপকূলজুড়ে বনদস্যু ভয়ে বিরাজ করছে থমথমে অবস্থা। গোটা সুন্দরবন বনদস্যুদের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জ এলাকায় সামপ্রতিক সময়ে এদের আধিপত্য বেশি।
সুন্দরবনে ২০১৮ সালে আত্মসমর্পণের মধ্যদিয়ে বনদস্যুমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছিল। এরপর থেকে সুন্দরবনে ফিরে আসে শান্তির সুবাতাস। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে ধীরে ধীরে পাল্টে যেতে থাকে সেই দৃশ্যপট। ফের বনদস্যুদের রাজত্বে পরিণত হয় সুন্দরবন। শান্ত সুন্দবনের সেই নদ-নদী, খাল গত এক বছরে আবার ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে। দস্যুদের অস্ত্রের ঝংকারে দীর্ঘদিন শান্ত থাকা সুন্দরবন এখন পরিণত হয়েছে আতঙ্কের বনে। এ অবস্থায় বনে যেতে ভয় পাচ্ছেন জেলেরা। এর ফলে অর্থনীতিতে পড়ছে বিরূপ প্রভাব।
২০১৬ সাল থেকে ২০১৮ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ধাপে ধাপে ৩২টি দস্যু বাহিনীর ৩২৮ জন সদস্য ৪৬২টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ২২ হাজার ৫০৪টি গোলাবারুদসহ র‌্যাবের কাছে আত্মসমর্পণ করে। পরবর্তীতে ২০১৮ সালের ১ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত ঘোষনা করে সরকার। স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যান আত্মসর্ম্পণকারী দস্যুরা। শান্তি ফিরে আসে গোটা সুন্দরবনে।২০২৪ সালের ৫ আগস্টে সরকার পরিবর্তনের পর তারা সরকারি সহায়তা থেকে অনেকটা বঞ্চিত। যারা এলাকায় ব্যবসা-বাণিজ্য শুরু করেছিলেন তাদেরকেও এখন চাঁদা দিচ্ছে হয়। স্বাভাবিক জীবনে ফিরেও বয়ে বেড়াতে হচ্ছে তাদের দস্যু নামের সেই পুরনো অপবাদ। সাবেক দস্যু নাম শুনলেই ভয়ে আর কেউ তাদের কাজে নেয় না। এমনকি নিজ এলাকার বাইরে কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে সেখানেও তাদের সম্পৃক্ততা দেখিয়ে মিথ্যা মামলা এবং প্রশাসনিক হয়রানি করা হয়। যে কারণে অনেকটা ক্ষোভ ও হতাশায় অস্ত্র হাতে তুলে আবার সেই অপরাধ জগতে ফিরেছেন অনেকেই।
সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেছেন আত্মসমর্পণ করা জাহাঙ্গীর বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর শেখ, দাদা ভাই বাহিনী প্রধান জয়নাল আবেদীন ওরফে রাজন এবং মানজুর বাহিনীর প্রধান মানজুর সরদার।
তারা বলেন, দস্যুতা তাদের ভালো লাগে না। বাধ্য হয়ে এসেছেন। তবে সামাজিক মর্যাদা, নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা পেলে আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবেন তারা।
বনবিভাগ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, জেলে ও ব্যবসায়ী সূত্রে জানা গেছে, বনদস্যুরা বিভিন্ন নামে দল (বাহিনী) গঠন করে অপরাধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। পূর্বের আত্মসমর্পণকারীসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ব্যক্তি এবং বিভিন্ন মামলায় দন্ডপ্রাপ্ত দাগি আসামীদের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে বাহিনীগুলো।
এসব বাহিনীর মধ্যে জাহাঙ্গীর বাহিনী, মানজুর বাহিনী এবং দাদাভাই বাহিনী অস্ত্র ও সদস্যসংখ্যায় বেশি এবং দুর্ধর্ষ। এই তিন বাহিনী পূর্বে আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবি জীবনে ফিরে গিয়েছিল। এছাড়া করিম শরীফ বাহিনী, আসাবুর বাহিনী, দয়াল বাহিনী, রবি বাহিনী, দুলাই ভাই বাহিনী, রাঙ্গা বাহিনী, সুমন বাহিনী, আনারুল বহিনী, হান্নান বাহিনী ও আলিফ বাহিনীর নাম উল্লেখযোগ্য। এদের মধ্যেও পুরনো অনেকেই নতুন বাহিনী নাম দিয়ে করছেন দস্যুবৃত্তি। এর বাইরেও ছোট ছোট আরো ৭-৮টি দস্যুবাহিনী রয়েছে বলেও জানা গেছে। এদের একেক বাহিনীতে ১৫-২০ জন থেকে ৪০ জন পর্যন্ত সদস্য রয়েছে। এসব বাহিনীর প্রত্যেকের হাতে রয়েছে দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র। এরা গহীন বনে আস্তানা গড়ে জেলেদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করে আসছে।
এক বছর ধরে অস্বাভাবিক বেড়েছে দস্যুদের উৎপাত। এপর্যন্ত কমপক্ষে তিন শতাধিক জেলে অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। গত এক মাসেই (১ সেপ্টেম্বরের পর থেকে) শতাধিক জেলেকে জিম্মি করে দস্যুরা। এদের মধ্যে অনেকেই গোপনে মোবাইল বিকাশ এবং দস্যুদের সোর্সের মাধ্যমে মুক্তিপণের টাকা পরিশোধ করে ফিরে এসেছেন। এখনো শরণখোলার ১৫ থেকে ২০ জন জেলে কয়েকটি বাহিনীর কাছে জিম্মি রয়েছেন বলে মৎস্য ব্যবসায়ীরা


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা