বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ-আবু-হানিফ এর পাঠানো তথ্য চিত্রে ডেস্ক রিপোর্ট
তিন দিনব্যাপী রাসপূজা উৎসবের সময় শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বী পূন্যার্থী ছাড়া কোনো টুরিস্ট যাওয়ার অনুমতি পাচ্ছেনা। বনের প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা, হরিণ শিকার ও প্লাস্টিক বর্জ্য দূষণ রোধে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে রাসপূজা উদযাপন কমিটি ও বনবিভাগ।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাসপূজা উপলক্ষে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
দুবলার চরের আলোর কোলে আজ থেকে শুরু হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের রাস উৎসব ও পূণ্য স্নান আগামী ৫ সেপ্টেম্বর সকালে পূর্ণিমার ভরা জোয়ারে পূণ্যস্নানের মধ্যে দিয়ে শেষ হবে এই উৎসব।
হাজার হাজার পুণ্যার্থীর আগমনে রাসপূজা হয়ে উঠবে উৎসবমুখর। ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী আলোর কোলে নির্মিত অস্থায়ী মন্দিরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সনাতন ধর্মের মানুষ এসে এখানে পূজা করবেন।
প্রায় ২০০ বছর আগে হিন্দু সন্ন্যাসী হরভজন দাস সুন্দরবনের দুবলার চরে রাস পূজার সূচনা করেন। সেই ধর্মীয় আচার থেকেই ধীরে ধীরে “দুবলার চরের রাস মেলা” নামে পরিচিতি পায় এই উৎসব।সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এখানে লাখো মানুষের সমাগম হতে থাকে। শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীই নয়, দেশি-বিদেশি পর্যটকরাও যোগ দিতেন এই রাস উৎসবে। ফলে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল, বনাঞ্চলের পরিবেশ এবং জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে। হরিণ শিকারিদের অপতৎপরতাও ব্যাপক হারে বাড়তে থাকে। এই কারণে ২০১৭ সাল থেকে মেলার ব্যাপকতা সীমিত করা হয় এবং রাস উৎসবকে কেবল ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়।
দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পূণ্যার্থীরা তাদের বিভিন্ন মানত পূর্ণ এবং বিভিন্ন আশা পূরণ করতে পূজা ও পূণ্যস্নানের মাধ্যমে পাপ মোচন করে থাকেন বলে জানান পূজায় আগমন কারী পূণ্যার্থীরা।
ভক্সপপঃ পূন্যার্থী নারী (১-২)
পূর্বে এখানে রাস পূজাকে ঘিরে সকল ধর্মের মানুষের আসার অনুমতি থাকলেও বর্তমানে শুধু মাত্র সনাতন ধর্মাবলম্বীরা আসার অনুমতি পাবে এবং পূর্ববর্তী সময়ে যে মেলা বা বিচিত্রা অনুষ্ঠান হতো তা বর্তমানে বন্ধ বলে জানিয়েছেন রাস উৎসব উদ্যাপন কমিটির সভাপতি ও দুবলা ফিশারমেন গ্রুপের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ।
ভক্সপপঃ রাস উৎসব উদ্যাপন কমিটির সভাপতি ও দুবলা ফিশারমেন গ্রুপের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ।
রাস পূজায় যোগ দিতে পুণ্যার্থীদের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে পাঁচটি নৌপথ। রাসপূজাকে কেন্দ্র করে প্রতি বছরে ন্যায় সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের উদ্যোগে বনজ সম্পদ রক্ষায় নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা। তবে এ বছর কঠোর নিরাপত্তায় যোগ হয়েছে পূণ্যার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও বন্যপ্রাণী শিকার রোধে বনবিভাগের নিরাপত্তা টিম স্কট দিয়ে পূজাস্হলে নিয়ে যাওয়া। এবছর কোনো ট্যূর অপারেটরকে ট্যুরিস্টদের নেওয়ার অনুমতি দেয়া হয়নি। এবছর ইতোমধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে বন বিভাগ।
সটঃ মো. রেজাউল করিম চৌধুরী ডিএফও সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগ
এদিকে পূণ্যার্থীদের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা প্রদানে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে বাগেরহাট জেলা পুলিশ ও কোষ্টগার্ডের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
সটঃ মো. আসাদুজ্জামান। পুলিশ সুপার। বাগেরহাট
সটঃ
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পূণ্যভূমি দুবলার রাস পূজা সম্পন্ন করে পূণ্যস্নানের মাধ্যমে পাপ মুক্ত হয়ে নির্বিঘ্নে পুন্যার্থীরা যাতে বাড়ীতে ফিরতে পারেন এমনটাই প্রত্যাশা তাদের।