• শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ০৭:০৫ পূর্বাহ্ন
Headline
খুলনায় সিটিআইপি’র ত্রৈমাসিক সভা অনুষ্ঠিত মাল*য়েশিয়ায় ব*ন্ধ হচ্ছে কারখানা চাকরি হারালেন ১৪২৬ শ্র/মিক বেল*জিয়ামে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিএন/পির অভ্যর্থনা পর*রাষ্ট্র উপ*দেষ্টাকে শ্র*মিক কল্যাণ ফেডা*রেশনের কর্ম*সূচি ঘোষণা শ্রমিক দিবস উপলক্ষে। চট্টগ্রামে গ্রেফতার হয়েছে ব্যবসায়ী মিজানুর হ/ত্যা মাম*লার প্রধা*ন আসামি খুলনা এক পুলিশ কর্মকর্তা ডিউটিরত অবস্থায় নিহত খুলনায় নার্সিং শিক্ষার্থীদের জন্য জব ফেয়ার ২০২৬ অনুষ্ঠিত খুলনায় বনবিভাগের নৈশ প্রহরীর দায়ের করা মামলা প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে মিথ্যা প্রমাণিত গাবুরা ইউনিয়ন ক্লাই/মেট এ্যাক*শন ফোরামের অর্ধ-বার্ষিক সভা ও কর্ম*পরিকল্পনা প্রণ#য়ন। রূপসায় গ্রাম আদালত বিষয়ক ত্রৈমাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত

সাতক্ষীরায় নিজের সন্তানকে বিশ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন মা

খুলনা ভিশন ডেক্স। কাজী আতিক / ১৪৬ Time View
Update : সোমবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৫

শেখ ফারুক
সাতক্ষীরায় স্বামীর বহু বিবাহের কারণে স্ত্রীর ভরনপোষন দিত্যে ব্যার্থ হওয়ায় সুস্থ্যভাবে বাঁচানোর তাগিদে নিজের নবজাতক কন্যা সন্তানকে মাত্র ২০ হাজার টাকায় অন্যের কাছে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে হতভাগ্য আশামনি খাতুন নামের এক মায়ের বিরুদ্ধে। সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি গ্রামে সম্প্রতি এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে। গত শুক্রবার (১৮ এপ্রিল) রাতে বিষয়টি জানাজানি হয়।

আশামনি খাতুন (২৫) সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি গ্রামের শামীম হোসেনের চতুর্থ স্ত্রী। সন্তানের সুচিকিৎসা ও দুধ কিনতে না পেরে তার ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে নবজাতক শিশু খাদিজা খাতুনকে নগদ বিশ হাজার টাকা বিক্রি করেছেন বলে জানান।

এলাকাবসী সূত্রে জানা যায়, আশামনি খাতুনের স্বামী শামীম হোসেন (২৮) আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি গ্রামের সৈয়দ আলী সরদারের ছেলে। পেশায় সে একজন টিউবওয়েল মিস্ত্রী। কখনো কখনো সে ইটভাটায় শ্রমিক হিসাবে কাজ করে। শামীম হোসেন গত শুক্রবার রাতে সদর উপজেলার ভালুকা চাঁদপুর কর্মকারপাড়ায় জনৈক আফসার আলীর বাড়িতে তার পঞ্চম স্ত্রী হোসনেআরা খাতুনকে নিয়ে রাত যাপন করছিলেন। গোপনে বিষয়টি জানতে পারেন আশামনি খাতুন।

এদিকে স্বামীর ৫ম বিয়ের খবর শুনে শুক্রবার ভোরে খোঁজ নিতে ভালুকা চাঁদপুর চলে যান আশামনি খাতুন। সেখানে স্বামী ও তার ৫ম স্ত্রী হোসনেআরার সাথে সাক্ষাৎ মেলে আশামনির। একপর্যায় শামীম ও আশামনির মধ্যে বাকবিতন্ডা ও মারামারি শুরু হয়। স্থানীয়দের উপস্থিতিতে স্বামী-স্ত্রীর মারামারি বন্ধ হলেও সুকৌশলে পালিয়ে যায় ৫ম স্ত্রী হোসনেআরা খাতুন।

আশামনি জানান, চলতি সালের জানুয়ারি মাসের ১৬ তারিখে স্থানীয় কুল্যার মোড়ে একটা ক্লিনিকে তিনি দ্বিতীয় সন্তান প্রসব করেন। স্বামী খোঁজ খবর না নেওয়ায় ক্লিনিকের খরচ, বাচ্চার ঔষধ ও দুধ কিনতে দিশেহারা হয়ে পড়েন তিনি। সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে একপর্যায় নিজের নবজাতক শিশু খাদিজাকে ১৪দিন বয়সে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে আশাশুনি তেঁতুলিয়া গ্রামের চা বিক্রেতা নিঃসন্তান রবিউল-কাজল দাম্পতির কাছে নগদ ২০হাজার টাকায় বিক্রি করেন। নিজের সন্তানকে সুস্থ্যভাবে বেঁচে থাকার জন্য তিনি একাজ করেছেন বলে জানান আশামনি খাতুন।

এবিষয়ে চা বিক্রেতা রবিউলের স্ত্রী কাজল বলেন, আমরা দরদাম করে কয়েকজন সাক্ষীর সামনে শর্ত দিয়ে টাকার বিনিময়ে বাচ্চাকে কিনে নিয়েছি। বাচ্চার টিকা কার্ডে পিতা-মাতার নামের স্থানে আমার স্বামী ও আমার নাম দিয়েছি। জন্ম নিবন্ধন সনদে তার নাম রাখা হয়েছে ফারিয়া জান্নাতুল। সে এখন থেকে আমাদের পরিচয়ে পরিচিত হবে।

শামীম নিজেকে নির্দোষ দাবি করে এবিষয়ে আশাশুনি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেও পরে আর খোঁজ খবর নেইনি বলে জানায় সে।

আশাশুনি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সামছুল আরেফিন বলেন, আমি সম্প্রতি আশাশুনি থানায় নতুন যোগদান করেছি। বিষয়টি সম্পর্কে আমার কিছুই জানা নেই। তবে এবিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

এদিকে এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, যেখানে যায় সেখানেই বিয়ে করে শামীম। ২০১৬ সালে সে তালা উপজেলা লাউতাড়া গ্রামে সামাজিকভাবে বিবাহ করলেও সে বিয়ে টিকেনি। এরপর উপজেলার বদরতোলায় টিউবওয়েল স্থাপনের কাজ করতে গিয়ে বাড়ির মালিকের স্ত্রীকে ভাগিয়ে নিয়ে বিয়ে করে। সে বিয়েও টিকেনি। পরবর্তী নিজের চাচাতো বোন বিলকিস খাতুনকে বিয়ে করে। বিলকিসকে নিজ বাড়িতে রেখে ইটভাটায় কাজ করতে গিয়ে শামীম চতুর্থ স্ত্রী হিসাবে আশামনিকে বিয়ে করে। পরে শামীমকে ডিভোর্স দিয়ে অন্যত্র চলে যায় বিলকিস।

আশামনি জানান, তার গর্ভে সন্তান থাকাকালীন বদরতোলায় আবারো টিউবওয়েল স্থাপনের কাজ করতে গিয়ে ছয়মাস আগে হোসেনে আরাকে বিয়ে করে শামীম। মোবাইলে শামীমের সাথে যোগাযোগ করলেও সে তার ও সন্তানের কোন খোঁজ খবর নেয়নি। বাধ্য হয়ে তিনি নিজের সন্তানকে বিক্রি করেছেন।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা