• রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৮ অপরাহ্ন
Headline
খুলনা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় বিএনপি নেতা খায়রুল ইসলাম খান জনিকে সংবর্ধনা। ডেঙ্গু প্রতিরোধে খুলনা জেলা কারাগার-২-এ সচেতনতামূলক কর্মসূচি ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান লোডশেডিংয়ে জেনারেটরের শব্দ, ফ্যাক্টরি চালু রাখতে নানা হয়রানি: শব্দদূষণ, নাকি নেপথ্যে অন্য কারণ কপিলমুনি কলেজে ৮ অক্টোবর একাদশ শ্রেণির নবীনবরণ চুয়াডাঙ্গায় মাদক মামলায় একজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড খুলনা দিঘলিয়া উপজেলা নিজ বাড়ির সামনে গুলি করে হত্যা। এমপি বকুলের সান্নিধ্যে উন্নত চিকিৎসার জন্য ব্যাংকক যাচ্ছে সাগর মায়ের অস্ত্রোপচার নিয়ে দুশ্চিন্তা, দোয়া কামনা খুলনায় বিদেশি পিস্তল, গুলি ও ককটেল সদৃশ্য বস্তুসহ তিনজন আটক নৌবাহিনী পরিচালিত শিপইয়ার্ডে দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত টাগবোট ‘টিয়াখালী-৪’ সেই ‘চোর’ বাবা আসলে চোর নন, পরিস্থিতির শিকার

ফরিদপুরে , সাপের কামড়ে ওঝার মৃত্যু!

M,A Salam ( Babu ) / ১৩১ ০০ Time View
Update : শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

 মাসুদ রানা
আকোটেরচর ইউনিয়ন, সদরপুর, ফরিদপুর
একটি ভুল ধারণা, একটি ভুল সিদ্ধান্ত—চিরতরে থামিয়ে দিতে পারে একটি জীবন।
দাঁড়াশ ভেবে ধরেছিলেন সাপটি… কয়েক ঘণ্টা পরেই নিভে গেল একটি প্রাণ!
চায়না দুয়ারি জাল থেকে সাপ উদ্ধার করতে গিয়ে ওয়ালস ক্রেইটকে দাঁড়াশ ভেবে ধরতে গিয়ে ছোবল—মর্মান্তিক মৃত্যু আলমগীর ওঝার।
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার আকোটেরচর ইউনিয়নের এই ঘটনাটি আবারও মনে করিয়ে দিল—সাপ সম্পর্কে ভুল ধারণা এবং চিকিৎসা নিতে দেরি, দুটোই প্রাণঘাতী হতে পারে।
জানা যায়, চায়না দুয়ারি জালে একটি সাপ আটকে ছিল। সাপটি উদ্ধার করতে যান আলমগীর ওঝা, যিনি স্থানীয়ভাবে ছত্তার ওঝার ছেলে হিসেবে পরিচিত। তিনি সাপটিকে দাঁড়াশ সাপ মনে করেছিলেন। কিন্তু সেটি ছিল ওয়ালস ক্রেইট (কালাচ/মাছুয়াআলা/কালি দাঁড়াশ)। সাপটিকে ধরতে গিয়ে তিনি ছোবলের শিকার হন।
 এরপর ঘটে আরও হৃদয়বিদারক ঘটনা।
সাপে কামড়ানোর পরও আলমগীরকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়নি। তার বাবা, যিনি নিজেও একজন ওঝা, নিজের ছেলেকেই ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে বিষ নামানোর চেষ্টা করেন। একজন বাবা বিশ্বাস করেছিলেন, হয়তো তিনি তার সন্তানকে বাঁচাতে পারবেন।
কিন্তু বাস্তবতা হলো—বিষধর সাপের বিষ ঝাড়ফুঁক করে শরীর থেকে বের করা সম্ভব নয়।
এভাবেই একের পর এক মূল্যবান সময় পার হয়ে যায়। যখন আলমগীরের শারীরিক অবস্থার গুরুতর অবনতি ঘটে, তখন তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে।
একজন বাবা তার ছেলেকে বাঁচানোর শেষ চেষ্টা করেছিলেন, অথচ ভুল ধারণা আর সময় নষ্টের কারণে হারিয়ে গেল একটি জীবন।
⚠️ এই ঘটনাটি কোনো একজন আলমগীরের গল্প নয়, এটি আমাদের সমাজের একটি বাস্তব চিত্র।
আজও অনেক মানুষ মনে করেন, সাপে কামড়ালে ওঝার কাছে গেলে বিষ নেমে যায়। অথচ বাংলাদেশে বিষধর সাপের কামড়ে কার্যকর চিকিৎসা হলো—দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যান্টিভেনমসহ চিকিৎসা গ্রহণ করা।
বিশেষ করে ওয়ালস ক্রেইট (কালাচ/মাছুয়া আলদ)-কে অনেক সময় দাঁড়াশ বা অন্য কোনো নিরীহ সাপ ভেবে ভুল করা হয়। তাই সাপ না চিনে কখনোই ধরতে যাবেন না।
মনে রাখবেন—সাপের বিষের চেয়েও ভয়ংকর হতে পারে ভুল ধারণা আর চিকিৎসা নিতে দেরি।
একটি ভুল ধারণা, একটি ভুল সিদ্ধান্ত—চিরতরে থামিয়ে দিতে পারে একটি জীবন। 🐍


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা