স্টাফ রিপোর্টার : খুলনা সিভিল সার্জন ডা. মোছা. মাহফুজা খাতুনের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, আউটসোর্সিং কর্মীদের ভুয়া হাজিরা দেখিয়ে বিল উত্তোলনের চেষ্টা, নিয়োগে অনিয়ম এবং ভুয়া মেডিকেল সার্টিফিকেটে স্বাক্ষরের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে লিখিত আবেদন করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে আব্দুল আজিজ নামে এক ব্যক্তি দাবি করেছেন, ২০২৫ সালের ৬ মার্চ খুলনার সিভিল সার্জন হিসেবে যোগদানের পর ডা. মাহফুজা খাতুনের দপ্তরে বিভিন্ন ফাইলের মাধ্যমে ঘুষ লেনদেনের সুযোগ তৈরি করা হয়। অভিযোগে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের হিসাবরক্ষক মো. মাহফুজুর রহমানের নামও উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, খুলনার বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ২১৪ জন চতুর্থ শ্রেণির আউটসোর্সিং কর্মীর চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তাদের ভুয়া হাজিরা দেখিয়ে বেতন বাবদ প্রায় ৪ কোটি ১০ লাখ ৮৮ হাজার টাকা উত্তোলনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ বিষয়ে ২০২৫ সালের ১৬ এপ্রিল একটি চিঠি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পাঠানোর কথা অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১১ জন আউটসোর্সিং কর্মী সরবরাহের জন্য প্রায় ২৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকার একটি ক্রয়সংক্রান্ত বিষয়েও অনিয়ম ও ঘুষের অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে আরও দাবি করা হয়েছে, সিভিল সার্জন কার্যালয়ে বিভিন্ন কাজে ব্যবহারের জন্য ভুয়া মেডিকেল সার্টিফিকেটে চিকিৎসকদের স্বাক্ষর নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এতে রাজি না হওয়া চিকিৎসকদের বদলির হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। পরে অন্য একজন চিকিৎসককে দিয়ে এসব সার্টিফিকেটে স্বাক্ষর করানোর অভিযোগ করা হয়েছে।
এদিকে ২০২২ সালে খুলনা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের বিভিন্ন শূন্য পদে নিয়োগের জন্য প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি এবং পরবর্তী সময়ে লিখিত পরীক্ষা স্থগিতের বিষয়ও অভিযোগপত্রে তুলে ধরা হয়েছে। পরবর্তীতে ২০২৫ সালে নতুন করে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর কয়েকজন প্রার্থীর কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে আবেদনটির সঙ্গে কোনো চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন বা আদালতের সিদ্ধান্তের উল্লেখ পাওয়া যায়নি।
অভিযোগে সিভিল সার্জনের নিয়মিত অফিস না করার বিষয়েও দাবি করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সরকারি ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ডা. মোছা. মাহফুজা খাতুন বর্তমানে খুলনা সিভিল সার্জন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং ২০২৫ সালের ৬ মার্চ তিনি এ পদে যোগদান করেন।
এর আগে ২০২৬ সালের মে মাসে খুলনা সিভিল সার্জন কার্যালয়কে ঘিরে টিকাদান কার্যক্রমের অনিয়ম, দাপ্তরিক চিঠিতে গুরুতর ভুল এবং ঘুষের অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। সে সময় সিভিল সার্জন ডা. মাহফুজা খাতুন ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছিলেন, তাঁর নাম ভাঙিয়ে কেউ এমন কাজ করতে পারে।
সহকারি পরিচালক (প্রশাসন) ডা. এস. এম . শাহরিয়ার বলেন আমাদের কাছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে তদন্ত করার নির্দেশ এসেছে তারই পরিপেক্ষিতে আমরা তদন্ত শুরু করেছি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কিছু বলতে পারব না।
খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডাঃ শেখ মোঃ মোশাররফ হোসেন বলেন বিষয়টি নিয়ে আমরা তদন্ত করছি এজন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর আমরা বিস্তারিত জানাবো।
এ বিষয়ে খুলনা সিভিল সার্জন ডাঃ মোছাঃ মাহফুজা খাতুন এর সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি পরে তার মুঠোফোনে কল দিলেও তিনি ফোন ধরেননি