১২ জুলাই ২০২৬, দুপুর ১টায় সুন্দরবনের আন্ধারমানিক এলাকায় ছয় মাসের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন শেষে গুরুতর আহত একটি রয়েল বেঙ্গল বাঘিনীকে সফলভাবে তার প্রাকৃতিক আবাসস্থলে অবমুক্ত করা হয়েছে।
গত ৩ জানুয়ারি ২০২৬ সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের শরকির খাল এলাকায় চোরা শিকারিদের পাতা ফাঁদে আটকা পড়ে বাঘিনীটি গুরুতর আহত হয়। সামনের বাম পায়ের চামড়া ও মাংসপেশী মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বন বিভাগের দ্রুত উদ্ধার অভিযান, দেশি-বিদেশি পশু-চিকিৎসকদের নিবিড় চিকিৎসা এবং বনকর্মীদের নিরলস পরিচর্যায় ছয় মাস পর সে আবার ফিরে পেল তার স্বাভাবিক জীবন।
মেডিকেল বোর্ড ও বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, বাঘিনীটি শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ সুস্থ, শিকার ধরার স্বাভাবিক দক্ষতা অক্ষুণ্ণ রয়েছে এবং বন্য পরিবেশে স্বাধীনভাবে টিকে থাকার সক্ষমতা অর্জন করেছে। সেই মূল্যায়নের পরই তাকে তার পূর্বের বিচরণক্ষেত্র আন্ধারমানিকে অবমুক্ত করা হয়।
বাংলাদেশে এই প্রথম গুরুতর আহত একটি রয়েল বেঙ্গল বাঘিনীকে সফল চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের মাধ্যমে আবার সুন্দরবনের বনে ফিরিয়ে দেওয়া হলো। এটি নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক। এই ঐতিহাসিক কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় প্রতিমন্ত্রী পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম এমপি।
উপস্থিত ছিলেন প্রধান বন সংরক্ষক জনাব মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী, খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক জনাব ইমরান আহমেদ, বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চলের বন সংরক্ষক জনাব মো. ছানাউল্যা পাটওয়ারী, সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী, বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ খুলনা এর ডিএফও জনাব নির্মল কুমার পাল, সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের ডিএফও জনাব এ জেড এম হাসানুর রহমান,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক বৃন্দ, IUCN এর Country Representative মিজ বিপাশা হোসেন, বন্যপ্রাণী বিষয়ক জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত জনাব আদনান আজাদ সহ দেশের বিশিষ্ট বিশেষজ্ঞ, বনকর্মী, ভিলেজ টাইগার রেসপন্স টীম সদস্য এবং সংবাদকর্মীরা।
এই অর্জন প্রমাণ করে, আন্তরিকতা, বিজ্ঞানভিত্তিক ব্যবস্থাপনা এবং প্রচেষ্টা থাকলে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায়।
সুন্দরবনের প্রতিটি বাঘ, হরিণ ও বন্যপ্রাণী আমাদের জাতীয় ঐতিহ্য। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব।
সুন্দরবনের রানী আজ তার আপন ঘরে ফিরেছে।
বাংলাদেশ আজ বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের ইতিহাসে আরেকটি গৌরবময় অধ্যায় রচনা করলো।