খুলনার উপকূলীয় অঞ্চলে পানি সংকট ও লবণাক্ততার ভয়াবহ ভবিষ্যৎ চিত্র উঠে এসেছে তৃতীয় উপকূলীয় পানি সম্মেলনে। পানি ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ড. আইনুন নিশাত সতর্ক করে বলেছেন, আগামী ৫০ বছরের মধ্যে খুলনা শহরের পানির লবণাক্ততা সমুদ্রের পানির কাছাকাছি পৌঁছে যেতে পারে, যা সুন্দরবন ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি ব্যবস্থার জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) খুলনার সিএসএস আভা সেন্টারে তিন দিনব্যাপী তৃতীয় উপকূলীয় পানি সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে গবেষণা ও মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা বিনিময় বিষয়ক ১৪টি সেশনে এসব তথ্য তুলে ধরেন গবেষক, নীতিনির্ধারক, উন্নয়নকর্মী ও সাংবাদিকরা।
সম্মেলনের উদ্বোধনী প্লেনারি সেশনে ড. আইনুন নিশাত বলেন, লবণাক্ততা বাড়তে থাকলে সুন্দরবনে সুন্দরী গাছ ধীরে ধীরে কমে গিয়ে গরান গাছের আধিপত্য বাড়বে। এতে বনাঞ্চলের জীববৈচিত্র্যে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটবে। পাশাপাশি লবণসহিষ্ণু কীটপতঙ্গের বিস্তার বাড়বে এবং প্রচলিত কৃষি ফসলের উৎপাদন অর্ধেকে নেমে আসার আশঙ্কা রয়েছে।
এই সংকট মোকাবিলায় তিনি উপকূল রক্ষায় বাঁধ দ্রুত মেরামত, ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পৃষ্ঠস্থ পানির ব্যবহার বাড়ানো এবং পানির উৎসগুলো সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ড. নিশাত বলেন, পানির উৎস রক্ষা করা না গেলে ভবিষ্যতে এই অঞ্চলের মানুষের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে।
সম্মেলনের বিভিন্ন সেশনে ডিস্যালিনেশন প্রযুক্তি, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, নিরাপদ পানির নতুন প্রযুক্তি, পানি দূষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকি, জিআইএসভিত্তিক ঝুঁকি বিশ্লেষণ, নগর পানি ব্যবস্থাপনা এবং নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ওপর পানি সংকটের বাড়তি চাপ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বক্তারা জানান, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে নিরাপদ পানির সংকট দিন দিন মানবিক ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে। বিকল্প না থাকায় অনেক মানুষ লবণাক্ত পানি ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার সৃষ্টি করছে।
পানি ন্যায়বিচারকে মৌলিক মানবাধিকার হিসেবে উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। একই সঙ্গে স্থানীয় থেকে জাতীয় পর্যায়ে নীতিগত দুর্বলতা কাটিয়ে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান তারা।
তৃতীয় উপকূলীয় পানি সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।