প্রচলিত মঞ্চনির্ভর নির্বাচনী রাজনীতির বাইরে গিয়ে নদীবেষ্টিত জনপদের মানুষের মুখোমুখি দাঁড়ালেন খুলনা-৪ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির তথ্য সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল। জনতার সরাসরি প্রশ্নে উঠে এলো এলাকার দীর্ঘদিনের সংকট, সম্ভাবনা ও উন্নয়ন ভাবনা—আর তার জবাবে এলো সেতু, কৃষি, কর্মসংস্থান ও নদীকেন্দ্রিক টেকসই উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি।
শুক্রবার বিকেলে রূপসা উপজেলার পালেরহাট বাজার মাঠে অনুষ্ঠিত ব্যতিক্রমধর্মী ‘জনতার মুখোমুখি’ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রার্থীর কাছে সরাসরি প্রশ্ন করেন। চ্যানেল আইয়ের জনপ্রিয় টকশো উপস্থাপিকা দীপ্তি চৌধুরীর সঞ্চালনায় আয়োজিত এই প্রশ্নোত্তর পর্বে বেকারত্ব, মাদক, কৃষিপণ্যের ন্যায্য মূল্য, যোগাযোগ সংকট, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবাসহ জনজীবনের নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসে।
খুলনা-৪ আসনের ভৌগোলিক বাস্তবতা তুলে ধরে আজিজুল বারী হেলাল বলেন, রূপসা নদী এই অঞ্চলের প্রাণ হলেও পরিকল্পনার অভাবে তা অনেক সময় উন্নয়নের বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নদীকে বাধা নয়, শক্তিতে রূপান্তর করতে পারলেই খুলনা-৪ আসনের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তরুণদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বেকারত্ব ও মাদক আজ যুব সমাজের বড় সংকট। কৃষি, মৎস্য, নদীকেন্দ্রিক ব্যবসা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। পাশাপাশি খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও সামাজিক উদ্যোগ জোরদার করে তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
রূপসা অঞ্চলের সবজি চাষ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উৎপাদন ভালো হলেও যোগাযোগ ও বাজার ব্যবস্থার দুর্বলতায় কৃষক ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়ন ও আধুনিক বাজার ব্যবস্থা গড়ে তুলে কৃষকের সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন তিনি।
যোগাযোগ সংকটের স্থায়ী সমাধানে রূপসা নদীর ওপর দুটি সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে হেলাল বলেন, একটি সেতুর কাজ চলমান রয়েছে এবং আরেকটি নতুন সেতু নির্মাণ করা হবে, যা খুলনা-৪ আসনের অর্থনৈতিক চিত্র বদলে দেবে।
তিনি আরও জানান, রূপসা নদীর তীরে গড়ে ওঠা মাছ প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানিমুখী শিল্পকে পরিকল্পিতভাবে এগিয়ে নিলে বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি সম্ভব। এছাড়া জনগণের সমস্যা সরাসরি শোনার জন্য তিনি একটি হটলাইন চালু করেছেন, যা নির্বাচনের পরেও চালু থাকবে বলে জানান।
রূপসা জেলখানা ঘাট এলাকার দুর্ভোগ লাঘবে আধুনিক ফেরি পারাপার ব্যবস্থা চালুর প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে গুণগত পরিবর্তনের অঙ্গীকার করে আজিজুল বারী হেলাল বলেন, নির্বাচিত হলে তিনি সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে থাকবেন।
নেতাকর্মী, সুশীল সমাজ ও সাধারণ মানুষের ব্যাপক উপস্থিতিতে সরাসরি প্রশ্নোত্তরের এই আয়োজন খুলনা-৪ আসনের নির্বাচনী রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। জনতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোই এখন ভোটের মাঠে আজিজুল বারী হেলালের প্রধান রাজনৈতিক বার্তা।