• শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬, ০২:৩২ অপরাহ্ন

ট্রাম্প ভারতের ওপর ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের বিলে সম্মতি দিলেন

তন্দ্রা দাস / ১৩১ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি, ২০২৬

ভারতের ওপর ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের বিলে সম্মতি দিলেন ট্রাম্প ভারতের ওপর চড়া শুল্ক আরোপের বিলে সম্মতি দিলেন ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার তেল কেনে—এমন দেশগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের একটি বিলে সমর্থন দিয়েছেন। প্রস্তাবিত এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় চীন, ভারত, ব্রাজিলের মতো দেশগুলোর পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা পেতে পারে হোয়াইট হাউজ। এ তথ্য জানিয়েছেন প্রভাবশালী রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসি গ্রাহাম।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যের সিনেটর গ্রাহাম বলেন, ট্রাম্পের সঙ্গে একটি ‘খুবই ফলপ্রসূ’ বৈঠকের পর তিনি এই দ্বিদলীয় বিলের অনুমোদন বা ‘গ্রিনলাইট’ দিয়েছেন। ডেমোক্র্যাট সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথালের সঙ্গে যৌথভাবে প্রণীত ‘স্যানকশনিং রাশিয়া অ্যাক্ট’ নামে এই বিলটি পাস হলে রাশিয়ার জ্বালানি খাতের সঙ্গে ব্যবসা করা দেশগুলোর আমদানির ওপর উচ্চমাত্রার শুল্ক আরোপের এখতিয়ার পাবে হোয়াইট হাউজ।

গ্রাহাম এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এই বিল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে সেই দেশগুলোকে শাস্তি দেওয়ার সুযোগ দেবে, যারা সস্তা রুশ তেল কিনে ভ্লাদিমির পুতিনের যুদ্ধযন্ত্রকে জ্বালানি জোগাচ্ছে।’ তার কথায়, ‘চীন, ভারত ও ব্রাজিলের মতো দেশগুলোর ওপর এই বিল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বিপুল চাপ প্রয়োগের ক্ষমতা দেবে, যাতে তারা রাশিয়ার সস্তা তেল কেনা বন্ধ করে—যে তেল ইউক্রেনের বিরুদ্ধে পুতিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের অর্থ জোগাচ্ছে।’রুশ তেলের বড় ক্রেতা চীন-ভারত
যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও চীন ও ভারত রাশিয়ার তেলের বড় ক্রেতা হিসেবেই রয়ে গেছে। জ্বালানি ও পরিবেশবিষয়ক গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর রিসার্চ অন এনার্জি অ্যান্ড ক্লিন এয়ারের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, নভেম্বর মাসে রাশিয়ার মোট অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রায় অর্ধেক কিনেছে চীন, আর ভারতের ভাগ ছিল প্রায় ৩৮ শতাংশ। ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর ব্রাজিলও ভর্তুকিযুক্ত রুশ তেল কেনা বাড়ালেও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সেই আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের এই উদ্যোগ এমন এক সময়ে এলো, যখন ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে প্রায় চার বছর ধরে চলা যুদ্ধের অবসান ঘটাতে আলোচনা চলছে। মঙ্গলবার প্রথমবারের মতো ট্রাম্প প্রশাসন ইউক্রেনের জন্য বাধ্যতামূলক নিরাপত্তা নিশ্চয়তার ইউরোপীয় প্রস্তাবগুলোতে সমর্থন জানায়। এসব প্রস্তাবের মধ্যে যুদ্ধ-পরবর্তী অস্ত্রবিরতি পর্যবেক্ষণ এবং ইউরোপের নেতৃত্বে একটি বহুজাতিক বাহিনী মোতায়েনের বিষয়ও রয়েছে।তবে রাশিয়া এরই মধ্যে জানিয়েছে, ইউক্রেনে ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর সেনা মোতায়েন তারা মেনে নেবে না। এ বিষয়ে মস্কোর সমর্থনের কোনো ইঙ্গিত এখনো পাওয়া যায়নি।

  1. গ্রাহাম বলেন, ইউক্রেন পরিস্থিতির বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই বিল অত্যন্ত সময়োপযোগী। তার দাবি, ‘শান্তির স্বার্থে ইউক্রেন ছাড় দিচ্ছে, আর পুতিন কেবল কথাই বলে যাচ্ছেন—নিরীহ মানুষ হত্যা অব্যাহত রেখেছেন ৬৬টি আন্তর্জাতিক সংগঠন থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন। এর মধ্যে রয়েছে জাতিসংঘের জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ) এবং আন্তর্জাতিক জলবায়ু আলোচনা পরিচালনাকারী জাতিসংঘের ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (ইউএনএফসিসিসি)।
    বুধবার (৭ জানুয়ারি) এক নির্বাহী আদেশে ৬৬টি আন্তর্জাতিক সংস্থা, এজেন্সি ও কমিশনে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর আগে এসব সংস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা ও অর্থায়ন পর্যালোচনার নির্দেশনা দিয়েছিলেন তিনি।
    ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এই সংস্থাগুলোর অনেকগুলোই অপ্রয়োজনীয়, অপব্যবস্থাপনা বা যুক্তরাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও স্বার্থের পরিপন্থি। বেশিরভাগই জলবায়ু, শ্রম ও বিভিন্ন দেশের বিচিত্র সম্পর্কিত ইস্যু নিয়ে কাজ করে। এসব পদক্ষেপকে রিপাবলিকান প্রশাসন ওয়াক বা অগ্রাধিকারবিহীন উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
    এরই মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিওএইচও), ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘের সংস্থা (ইউএনআরডব্লিওএ), জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদ এবং ইউনেসকোসহ একাধিক সংস্থা থেকে বেরিয়ে এসেছে। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে জাতিসংঘের বিভিন্ন কর্মসূচি ও কর্মী সংখ্যায়ও কাটছাঁটের প্রভাব পড়ছে।
    আন্তর্জাতিক জলবায়ু আলোচনা কাঠামো (ইউএনএফসিসিসি) থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত জলবায়ু কেন্দ্রিক সংস্থাগুলো থেকে নাম প্রত্যাহারের সর্বশেষ পদক্ষেপ। এই চুক্তিই প্যারিস জলবায়ু চুক্তির ভিত্তি। সে চুক্তি থেকেও ট্রাম্প আগেই সরে দাঁড়িয়েছেন। মূলধারার বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মতো বড় অর্থনীতি ও নিঃসরণকারী দেশ সহযোগিতা থেকে সরে গেলে বৈশ্বিক জলবায়ু উদ্যোগ ব্যাহত হবে ।
    বিশ্বব্যাপী যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া জাতিসংঘের জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ) দীর্ঘদিন ধরে রিপাবলিকানদের বিরোধিতার মুখে রয়েছে। ট্রাম্প প্রথম মেয়াদেই এর অর্থায়ন বন্ধ করেছিলেন। যদিও পরবর্তী সময়ে বাইডেন প্রশাসন অর্থায়ন পুনর্বহাল করে।
    এ ছাড়া কার্বন ফ্রি এনার্জি কমপ্যাক্ট, ইউনাইটেড নেশনস ইউনিভার্সিটি, ইন্টারন্যাশনাল কটন অ্যাডভাইজরি কমিটি, ইন্টারন্যাশনাল ট্রপিক্যাল টিম্বার অর্গানাইজেশনসহ আরও বেশ কয়েকটি সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাহারের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আরও পর্যালোচনা চলছে বলে মার্কিন পররাষ্ট্র ।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা