• রবিবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৮:০৪ অপরাহ্ন
Headline
অনলাইন আরবি ভাষা প্রশিক্ষণ কোর্স ও আমার প্রত্যাশা। সুন্দরবনে নিষিদ্ধ কাকড়া আহরণকালে ৪ জেলে আটক বিএনপির বিরুদ্ধে সারাদেশে ষড়যন্ত্র চলছে, ইতিমধ্যে জাল সিল ধরা পড়েছে….মোংলায় শেখ ফরিদ পাইকগাছা উপজেলায় বিশাল সনাতনী সমাবেশে  রামপালে সাংবাদিকদের সাথে কেন্দ্রীয় ছাত্রশিবির নেতৃবৃন্দের মতবিনিময় সভা মিথ্যা অপপ্রচারের প্রতিবাদে বটিয়াঘাটায় বিএনপির সংবাদ সম্মেলন নির্বাচিত হলে এ জনপদের সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করবো…মোংলায় লায়ন ফরিদ মোংলা বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের গমের চতুর্থ চালান খালাস ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় সাহসের বার্তা: ৯ নারী সাংবাদিককে ল্যাপটপ সহায়তা, আশার আলোয় ফিরছে সাংবাদিকতা আর্টিকেল নাইন্টিন পক্ষ থেকে ৯ জন নারী সাংবাদিকদের মাঝে ল্যাপটপ বিতরণ 

বিএনপির আসনে ‘বিদ্রোহী’ কাঁটা, স্বস্তিতে আছেন কেবল সেলিম ও ববি

তন্দ্রা দাস / ৬৮ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি, ২০২৬

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপির আসন সমঝোতার সমীকরণ ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। একদিকে শরিক দলগুলোকে সন্তুষ্ট রাখতে আসন ছেড়ে দেওয়ার কৌশল, অন্যদিকে নিজ দলের ভেতরেই বিদ্রোহী প্রার্থীদের শক্ত অবস্থান— এই দুইয়ের চাপে অনেকটা অস্বস্তিতে পড়েছে রাজপথের প্রধান এই দলটি।
সমঝোতার অংশ হিসেবে বিএনপি ছেড়ে দেওয়া ১৪টি আসনের মধ্যে ছয়জন শরিক দলের প্রার্থী নিজ নিজ দল ত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ‘ধানের শীষ’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। অপরদিকে, অন্য আটজন প্রার্থী নিজ নিজ দলের প্রতীকেই মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়ে বিএনপি দ্রুত ও কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে না পারলে আসন সমঝোতার মূল উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হবে। শুধু তা-ই নয়, শরিকদের সঙ্গে দলটির দীর্ঘদিনের যে রাজনৈতিক আস্থার সম্পর্ক, সেটিও দুর্বল হয়ে পড়বে। শরিক দলগুলোর পাশাপাশি নির্বাচনী মাঠে এর রাজনৈতিক মূল্য দিতে হতে পারে বিএনপিকেও
কাগজে-কলমে বিএনপি যে ১৪টি আসন ছেড়ে দিয়েছে তার মধ্যে মাত্র দুটি আসন বাদে বাকি সবগুলোতে দলটির বিদ্রোহী প্রার্থীদের উপস্থিতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এতে শরিক দলগুলো কেবল নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় নয়, নিজেদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
শরিক দলগুলোর নেতারা বলছেন, দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়ে বিএনপি দ্রুত ও কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে না পারলে আসন সমঝোতার মূল উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হবে। শুধু তা-ই নয়, শরিকদের সঙ্গে দলটির দীর্ঘদিনের যে রাজনৈতিক আস্থার সম্পর্ক, সেটিও দুর্বল হয়ে পড়বে। শরিক দলগুলোর পাশাপাশি নির্বাচনী মাঠে এর রাজনৈতিক মূল্য দিতে হতে পারে বিএনপিকেও।
গত কয়েক দিনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন শরিক দলের শীর্ষ কয়েকজন নেতা। তারা বলছেন, শরিকদের আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়নি। কিন্তু যতটুকু আলোচনা হয়েছে, তাতে তারেক রহমানকে ইতিবাচক মনে হয়েছে। তিনি খুব শিগগিরই দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিয়ে বসে দ্রুত সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।
ঢাকা-১৮ আসনে মাহমুদুর রহমান মান্নার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষিত হওয়ায় সেখানে তার নির্বাচন করার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কিন্তু এই আসনে বিএনপির নিজস্ব প্রার্থী হিসেবে যুবদল ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। একইভাবে বগুড়া-২ আসনেও বিএনপির প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন মীর শাহে আলম। এই প্রেক্ষাপটে মাহমুদুর রহমান মান্না কোন আসন থেকে এবং কোন রাজনৈতিক সমঝোতার ভিত্তিতে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ নেবেন, তা এখনও স্পষ্ট নয় ।
তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করা গণতন্ত্র মঞ্চের একটি দলের শীর্ষ নেতা বলেন, শরিকদের আসনে বিএনপির যে সব বিদ্রোহী কিংবা স্বতন্ত্র প্রার্থী আছেন, এটা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা তো হবেই। তবে, তারেক রহমান আমাদের বলেছেন— দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিয়ে তিনি শিগগিরই বসবেন। এটার একটা সমাধানের আশ্বাসও তিনি আমাদের দিয়েছেন।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীদের উপস্থিতি আমাদের জন্য বিব্রতকর, সমস্যাজনক ও অস্বস্তিকর। আমি আশা করি, অচিরেই অনেকেই সরে দাঁড়াবেন। বিএনপি আন্তরিকভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছে।’
ঢাকা-১৮ ও বগুড়া-২ আসন থেকে মনোনয়ন নিয়েছেন মাহমুদুর রহমান মান্না। সেখানে তার বিরুদ্ধে লড়ছেন এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন ও মীর শাহে আলম ।
তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘আমরা আমাদের পক্ষ থেকে সহমর্মিতা ও শোক জানানোর জন্য বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি। তার পরিবার ও দল একটি কঠিন সময় পার করছে।
‘একসঙ্গে বসার কারণে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ নিয়ে তারেক রহমানের পরিকল্পনা আমরা শুনেছি এবং আমাদের দিক থেকে অনেকগুলো বিষয় শেয়ার করার সুযোগ হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও শেয়ার করার সুযোগ হবে।’ সাকি বলেন, ‘আমরা একটা জাতীয় পুনর্গঠনের সময় পার করছি। ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ের ধারাবাহিকতায় রাষ্ট্রব্যবস্থার সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ, নির্বাচন সম্পন্ন করা, সংবিধান সংস্কার পরিষদের সংস্কার প্রস্তাবগুলো গ্রহণ করা এবং তার বাস্তবায়ন আমাদের কর্তব্য। এর মধ্য দিয়ে এই জাতীয় পুনর্গঠনের কাল অতিক্রমের জন্য আমাদের যুগপৎ আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ন্যূনতম জাতীয় ঐক্যমত্য রক্ষা করতে হবে।’
বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীদের উপস্থিতি আমাদের জন্য বিব্রতকর, সমস্যাজনক ও অস্বস্তিকর। আমি আশা করি, অচিরেই অনেকেই সরে দাঁড়াবেন। বিএনপি আন্তরিকভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছে
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গণতন্ত্র মঞ্চের এক নেতা বলেন, ‘নির্বাচনী এলাকায় এমনিতে ভালো সমর্থন পাচ্ছি আমরা। বিদ্রোহী প্রার্থী সরে গেলে আশা করি অসুবিধা হবে না।’
সুবিধাজনক অবস্থানে সেলিম ও ববি
শাহাদাত হোসেন সেলিম নিজ দল ‘বাংলাদেশ এলডিপি’ বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দিয়ে লক্ষ্মীপুর–১ আসন থেকে ধানের শীষে নির্বাচন করছেন। শুরুতে সেখানে বিএনপির একাধিক প্রার্থী থাকলেও সেলিমকে বিএনপির মনোনয়ন দেওয়া হলে অন্যরা নির্বাচন থেকে সরে আসেন। ফলে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকায় সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন তিনি।
নড়াইল-২, এনপিপির চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ ও মো. মনিরুল ইসলাম। কুমিল্লা-৭, এলডিপির ড. রেদোয়ান আহমেদ ও আতিকুল আলম ।
শাহাদাত সেলিম, ‘২০১৮ সাল থেকে আমি তৃণমূল বিএনপির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এখানে একাধিক প্রার্থী থাকার পরও প্রত্যেকে আমাকে সাদরে গ্রহণ করেছেন এবং আমার নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছেন। আশা করছি, ধানের শীষের বিশাল বিজয় হবে।’

নির্বাচনে জয়ের কৌশল হিসেবে নিজ দল থেকে পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ। তিনি ঢাকা-১৩ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছেন। এই আসনে বিএনপির কোনো বিদ্রোহী প্রার্থী নেই। ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনের প্রথম থেকেই আমরা ছিলাম। দেশব্যাপী বিএনপি ও জাতীয়তাবাদী ঘরানার নেতারা জানেন, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে ববি হাজ্জাজের দল কী ধরনের অবদান রেখেছে।’
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ হলো— ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়। যারা প্রকৃত বিএনপি করেন তারা অবশ্যই তারেক রহমানের নির্দেশনা মানবেন। ঝিনাইদহ-৪ আসনে আমাকে তারেক রহমানই পাঠিয়েছেন। এখানে যারা মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন, তাদের অভিমান থাকা স্বাভাবিক। আশা করি, শেষ পর্যন্ত কেউ দলের বিদ্রোহী হবেন না
গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খাঁন
‘যখন ঢাকা-১৩ আসন থেকে আমার নির্বাচন করার কথা চলছিল, তখন থেকেই বিএনপির স্থানীয় নেতাদের সহযোগিতা পেয়ে আসছি। শুরুতে কয়েকজন সিনিয়র নেতা মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী ছিলেন। চূড়ান্তভাবে আমি মনোনয়ন পাওয়ার পর তারা আমার সঙ্গে এসেছেন এবং পূর্ণ সহযোগিতা করছেন। তাই শুরু থেকে আমি বড় কোনো প্রতিকূলতার মধ্যে পড়িনি।’


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা