• সোমবার, ০৯ মার্চ ২০২৬, ০৯:২৫ পূর্বাহ্ন

মোংলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, রাতুল ক্লিনিককে ৫ হাজার টাকা জরিমানা

খুলনা ভিশন ডেক্স বাবু / ২৩৩ Time View
Update : সোমবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২৫

আবু-হানিফ,বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ

প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন ও সেবামূলক নথিপত্রের ঘাটতির অভিযোগে মোংলার রাতুল ক্লিনিককে ৫,০০০ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। রবিবার (৭ ডিসেম্বর) দুপুরে পৌর শহরের রবীন্দ্রনাথ সড়কে অবস্থিত ক্লিনিকে আকস্মিক অভিযান চালিয়ে এই অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শারমিন আক্তার সুমি এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ শাহীন যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে ক্লিনিকটির পরিচালনার ক্ষেত্রে বহুবিধ গুরুত্বপূর্ণ ত্রুটি খুঁজে পাওয়া যায়।
ইউএনও শারমিন আক্তার সুমি জানান, রাতুল ক্লিনিকের পরিচালনার জন্য অপরিহার্য লাইসেন্স নবায়ন করা হয়নি। একই সাথে, স্বাস্থ্য সংক্রান্ত ঝুঁকি কমাতে প্রয়োজনীয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চুক্তি এবং ওষুধ বিক্রির জন্য আবশ্যক ড্রাগ লাইসেন্স ও নারকোটিক পারমিশনও ক্লিনিকটিতে ছিল না। দীর্ঘদিন ধরে এই ধরনের গুরুতর আইনি ঘাটতির মধ্য দিয়েই ক্লিনিকটি তার কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল।
এই অনিয়মগুলোর কারণে ক্লিনিকটির মালিক জোহরা খাতুনকে জরিমানা করা হয়। তবে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে তাদের সমস্ত কাগজপত্র হালনাগাদ করার জন্য আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে দিয়েছে যে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শর্তাদি পূরণ করতে ব্যর্থ হলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত ২০ নভেম্বর পরিদর্শনকালে মূল্য তালিকা প্রদর্শনের যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল, ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ তাও বাস্তবায়ন করেনি।
অভিযান চলাকালে স্থানীয় বাসিন্দারা ক্লিনিকটির বিরুদ্ধে গুরুতর আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ আনেন। সুরজিৎ মন্ডল ও মনির শিকদার বলেন, সিজারিয়ান অপারেশনসহ বিভিন্ন সেবার ক্ষেত্রে ক্লিনিকটি রোগীদের কাছ থেকে অনির্দিষ্ট ও অতিরিক্ত পরিমাণে অর্থ আদায় করে। যার ফলে রোগীরা চরমভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
এছাড়া, স্থানীয় ফার্মেসি মালিক সুব্র মন্ডল ড্রাগ লাইসেন্স ছাড়াই ওষুধ বিক্রির অভিযোগ তোলেন। অন্যদিকে, স্থানীয় বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন যে, গুরুত্বপূর্ণ অপারেশন করা হলেও ক্লিনিকটিতে সব সময় ডাক্তার উপস্থিত থাকেন না, যা ভর্তি রোগীদের জন্য দুর্ভোগের সৃষ্টি করে। তিনি আরও জানান, ভুল রিপোর্টের জন্য বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষায় অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার ঘটনাও প্রায়ই দেখা যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ক্লিনিক মালিক জাহাঙ্গীরের রাজনৈতিক আশ্রয় থাকার কারণেই এই প্রতিষ্ঠান এত অনিয়মের মধ্যেও বহাল রয়েছে।##


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা