আজ
|| ১৭ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৩রা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ || ২৭শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি
দেশের দ্বীতীয় বৃহত্তম সমুদ্র বন্দর মোংলার সক্ষমতা বৃদ্ধিতে মহাপরিকল্পনা এবং উন্নয়নের কর্মযগ্য।চ্যানেলে বড় ধরনের ড্রেজিং প্রকল্প অনুমোদন
প্রকাশের তারিখঃ ২৩ নভেম্বর, ২০২৫
আবু-হানিফ,বাগেরহাট,প্রতিনিধিঃ
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলা এখন এক বিশাল উন্নয়ন কর্মযগ্যের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। বন্দরের সক্ষমতা কয়েক গুণ বাড়াতে এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে ত্বরান্বিত করতে নেওয়া হয়েছে এক মাস্টারপ্ল্যান, যার কেন্দ্রে রয়েছে পশুর চ্যানেলকে গভীর ও সচল রাখা।
আউটার বার ড্রেজিং সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর, এখন ইনার বার ড্রেজিং চলছে। এর পাশাপাশি, চ্যানেলের গভীরতা ধরে রাখার জন্য একনেকে সম্প্রতি 'পশুর চ্যানেলে সংরক্ষণ ড্রেজিং' নামে একটি মেগা প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে চ্যানেলে ড্রেজিং না হওয়ায় ২০০২ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত মোংলা বন্দর মৃতপ্রায় অবস্থায় চলে গিয়েছিল। কিন্তু চলমান প্রচেষ্টার ফলে বন্দরের চিত্র পাল্টে গেছে। ৭১২ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৪ কিলোমিটার আউটার বার ড্রেজিং শেষ হওয়ায় এখন ৯ মিটার ড্রাফটের জাহাজ অনায়াসে বন্দরে আসা-যাওয়া করতে পারছে।
পশুর চ্যানেলের জয়মনিরঘোল থেকে বন্দর জেটি পর্যন্ত প্রায় ২৩ কিলোমিটার নৌপথ খননের কাজ চলছে। এই প্রকল্পের ব্যয় শুরুতে প্রায় ৭৯৪ কোটি টাকা থাকলেও সময় বৃদ্ধির কারণে তা বেড়ে ৯৯২ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। ইনার বার ড্রেজিং শেষ হলে ৯.৫০ মিটার থেকে ১০ মিটার ড্রাফটের জাহাজ সরাসরি মোংলা বন্দর জেটিতে প্রবেশ করতে পারবে।
চ্যানেলের ড্রাফ্ট বা গভীরতা স্থায়ীভাবে বজায় রাখার জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষ নতুন একটি বড় প্রকল্প হাতে নিয়েছে।গত
৮ জানুয়ারি (২০২৫) একনেকের সভায় এই প্রকল্পটি অনুমোদন পায় প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১,৫৩৮ কোটি ১৯ লাখ টাকা। এটি ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৯ সালের ডিসেম্বর মাসের মধ্যে বাস্তবায়িত হবে। এর মধ্যে ১,৩৮৪ কোটি ৩৭ লাখ টাকা সরকারি তহবিল থেকে এবং ১৫৩ কোটি ৮২ লাখ টাকা মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের নিজস্ব তহবিল থেকে দেওয়া হবে।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহীন রহমান বলেন, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই বন্দরকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য নিয়মিত পশুর চ্যানেল ড্রেজিংয়ের কোনো বিকল্প নেই।
বর্তমানে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং মেট্রোরেল প্রকল্পের মতো দেশের তিনটি বড় মেগা প্রকল্পের সব মালামাল এই বন্দর দিয়েই খালাস হচ্ছে।
রেকর্ড রাজস্ব: ড্রেজিং এবং অন্যান্য পদক্ষেপের ফলস্বরূপ, এ বছর বন্দরে রেকর্ড সংখ্যক জাহাজের আগমন-নির্গমন হয়েছে এবং রাজস্বও বৃদ্ধি পেয়েছে।
চেয়ারম্যান আরও জানান, মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় বন্দরের নাব্যসংকট নিরসনসহ গতিধারা ও সক্ষমতা বহুলাংশে বাড়ানোর জন্য পর্যায়ক্রমে এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ কর্মযজ্ঞ চলবে। বন্দরের আধুনিকায়ন ও গতিশীলতা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষ বেশ কিছু সহায়ক প্রকল্পও বাস্তবায়ন করছে।
Copyright © 2026 Khulna Vision24. All rights reserved.