আজ
|| ১২ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২৭শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ || ২২শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি
রামপালে ঘেরের আইলে সবজি চাষে কৃষকের ভাগ্য বদল
প্রকাশের তারিখঃ ২২ নভেম্বর, ২০২৫
আবু-হানিফ,বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ
রামপাল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাছের ঘেরের আইলে সবজি চাষ করে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলছে স্থানীয় কৃষকেরা। আগে যে জমি বছরের বেশিরভাগ সময় অব্যবহৃত পড়ে থাকত, এখন সেই জমিতে সারা বছর চাষাবাদের মাধ্যমে অতিরিক্ত আয় করছেন কৃষকেরা। এতে তাদের পরিবারে আসছে আর্থিক স্বচ্ছলতা। বদলাচ্ছে রামপালের গ্রামীণ অর্থনীতি।
রামপালের গৌরম্ভা, পেড়িখালী, রামপাল সদর, রাজনগর, বাইনতলা, উজলকুড়, হুড়কা, মল্লিকের বেড়, বাশতলী ও ভোজপাতিয়া ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, মৎস্যঘেরের আইলে চাষ করা হচ্ছে লাউ, করলা, ঢেঁড়স, ঝিঙা, শসা, কুমড়া, বেগুনসহ নানা প্রজাতির সবজি। একই সঙ্গে মাছ ও সবজি উৎপাদনের ফলে জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হচ্ছে, যা কৃষকদের লাভের পথ আরও প্রশস্ত করেছে।
সোনাকুড় গ্রামের স্থানীয় কৃষক মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, আগে শুধু মাছের উপর নির্ভর করতাম। এখন ঘেরের আইলে সবজি লাগিয়ে প্রতি মৌসুমে বাড়তি ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা আয় হয়। এতে সংসারের খরচ অনেকটা মেটে
ভরসাপুর গ্রামের নারী কৃষক সুফিয়া বেগম জানান, আমি ঘেরের ধারে করলা ও লাউ লাগিয়েছি। বাড়ির কাজ সামলে এগুলোর যত্ন নিতে কষ্ট হয় না। প্রতিদিন কিছু না কিছু বিক্রি হয়, ফলে হাত খরচও উঠে আসে। একই কথা বলেন, সিংগড়বুনিয়া গ্রামের আয়েশা বেগম। তিনি বলেন, আমি সবজি চাষ করি সংসারের চাহিদা মেটানোর জন্য। নিজের চাহিদা মিটিয়ে কিছু বিক্রি করি। এতে সংসারের খরচ বাঁচে, কিছু সাশ্রয় হয়।
এ বিষয়ে কথা হয়, রামপাল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ওয়ালিউল ইসলামের সাথে। তিনি জানান, আমরা কৃষকদের ঘেরের আইলে সবজি চাষে উৎসাহিত করছি। কোন জমি যাতে পতিত না থাকে, মাছ চাষও ক্ষতিগ্রস্ত হয় না বরং একসাথে দ্বিগুণ লাভ হয়। বর্তমানে এই পদ্ধতিতে রামপালের বিভিন্ন ইউনিয়নে সবজি চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তিনি আরও বলেন, এভাবে সবজি চাষে কীটনাশকমুক্ত ফসল উৎপাদনের দিকেও আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি। কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, বীজ, সার ও প্রযুক্তিগত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আমরা চাই, প্রতিটি ঘেরের আইল সবুজে ভরে উঠুক।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে রামপালের প্রায় ৪৬৫ হেক্টর জমির ঘেরের আইলে বিভিন্ন প্রজাতির সবজি চাষ হয়েছে। স্থানীয় কৃষকেরা বলছেন, এই পদ্ধতি শুধু তাদের আয় বৃদ্ধি করছে না, এটি খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি সরবরাহেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
এদিকে, সচেতন কৃষকেরা মনে করছেন, সরকারের আর্থিক সহযোগিতা ও সঠিকভাবে প্রণোদনা বিতরণ নিশ্চিত হলে রামপাল উপজেলায় আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই একটি আইলভিত্তিক সবজি উৎপাদন মডেল অঞ্চল হিসেবে গড়ে উঠবে।কৃষকরা আরও দাবি করেন,
যে প্রণোদনা, বীজ বা ভর্তুকি সরকার কৃষি খাতে বরাদ্দ দিচ্ছে, তা যেন প্রকৃত কৃষকের হাতে পৌঁছায়। এটা নিশ্চিত করা খুব জরুরি। এতে উৎপাদন বাড়বে, কৃষক আরও উৎসাহী হবে।
রামপালের কৃষিকেরা আশাবাদী যদি এই ধারা অব্যাহত থাকে, তাহলে ঘেরের আইলভিত্তিক সবজি চাষ রামপালকে বাগেরহাট জেলার অন্যতম কৃষি উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে।
Copyright © 2026 Khulna Vision24. All rights reserved.