
পাঁচ বছরের বদলি হয়নি শিশু মন্ডল, অথচ অন্যদের এক বছরে তিনবারও হচ্ছে বদলি
সাতক্ষীরা বুড়িগোয়ালিনী স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তা জিয়া, সহকারী রেঞ্জ কর্মকর্তা হাবিব ও মেজবাহ্ এর সিন্ডিকেটের সদস্য শিশু মন্ডলকে ঘিরে সম্প্রতি নানা তর্ক বিতর্ক সৃষ্টি হয়। ইতিমধ্যেই শিশু মন্ডলের স্মার্ট বাহিনীর তালিকা ও চাঁদা এবং জেলেদের আটককৃত কাঁকড়া বিক্রি কে কেন্দ্র করে নিউজ প্রচারের পর সম্প্রতি একটি ভিডিও ভাইরাল হয় । অপরদিকে নিউজ প্রচারের পর/পরবর্তীতে সকল আউটসোর্সিং কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানো নোটিশ দেওয়া হয়।
অথচ যেখানে কাঁকড়া বিক্রিসহ সাতক্ষীরা রেঞ্জের শিশু মন্ডলের নানা অপকর্মসহ বুড়িগোয়ালিনী স্টেশনের নানা কথোপকথনের তথ্য উঠে আসে যে ভিডিওতে।

অথচ ৫ বছর একই স্টেশনে থাকা অভিযুক্ত সেই শিশু মন্ডলকে বদলি না করে, বদলি করা হয় জামাল নামে এক আউটসোর্সিং কর্মকর্তাকে। অথচ গত ১০ ই নভেম্বর ফরেস্টের সাতক্ষীরা রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ ফজলুল হকের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে জামাল হোসেন সহ মোট ১২ জনকে বদলি করা হয়। দুই মাস যেতে না যেতেই গতকাল আবার মৌখিকভাবে জামালকে বদলি করা হয়।কোন প্রকার চিঠি ছাড়াই বদলি করা হচ্ছে এভাবে। এভাবে সুন্দরবনের বদলি আদেশ হচ্ছে খাতা কলমে অথচ বছরের পর বছর থেকে যাচ্ছে মৌখিকভাবে আদেশ। সাতক্ষীরা রেঞ্জে ইতিমধ্যেই সেবাকর্মী মোঃ সিরাজুল ইসলামের কর্মস্থল কদমতলায়
অথচ তিনি মৌখিকভাবে বদলি হয়েছেন কোবাদক ষ্টেশনে। মোঃ মুন্না কর্মস্থল কোবাদক কিন্তু তাকে মৌখিকভাবে দেওয়া হয়েছে কদমতলা টহল ফাঁড়িতে । অপরদিকে এফজি আমিনুল ফকিরের কর্মস্থল হলদিবুনিয়া মৌখিকভাবে থেকে রয়েছেন মুন্সিগঞ্জ টহল ফাঁড়িতে। বিএম বাবুল আক্তারের কর্মস্থল ট্যাংরাখালী কিন্তু তিনি মৌখিকভাবে রয়েছেন দোবেকি টহল ফাঁড়িতে।
শিশু মন্ডল সম্প্রতি স্মার্ট বাহিনীতে যাবার পূর্বে প্রায় ১৪০ টি অবৈধ নৌকার তালিকা নেয় বিভিন্ন কোম্পানির নিকট থেকে তালিকার নাম থাকলেই তার জন্য অভয়ারণ্য বলে কিছু নাই, সবকিছুই তার জন্য বৈধ ফরেস্টের স্মার্ট বাহিনী তাদের ধারের কাছেও যাবে না। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য রয়েছে, অয়ন কোম্পানির ফাঁদ জাল নৌকা ২০ টা হলদি বুনিয়া , পুষ্প কাঠি, কাশি কাটা , মান্দারবাড়ি নটাবেকি,
কামরুল কোম্পানির কাঁকড়া ২৫ টা ও চরপাটা ১০ টা, কলজাল, খালের মুখে আটকাই দিয়ে বিষ দিয়ে মাছ ধরে ১২ টা, কামরুলের নৌকা চলে কোবাদক স্টেশনের সামনে দিয়ে নস্টটাবেকি, পুষ্প কাঠি ও মান্দারবাড়ি, হোসেন কোম্পানি, চরপাটা নৌকা আছে ১০টা, ফাশ জালের নৌকা রয়েছে প্রায় ১০টা, কাঁকড়ার নৌকা আছে প্রায় ৩০ টার অধিক এ মাছ ধরে নটাবেকি,হলদিবুনিয়া কাশিকাটা পুষ্পকাঠী মান্দারবাড়ি দোবেকী কিছু জায়গায় থাকে।
এছাড়া আকবার কোম্পানি, শরিফ কোম্পানির, লুৎফার ও আবু সালেহ নিকট থেকে প্রতিগোণে প্রায় শতাধিক নৌকার তালিকা নেওয়া হয়।
এসকল প্রত্যেকটি নৌকার জেলেদের ৫০০ টাকা করে দিতে হয় সহকারী রেঞ্জ কর্মকর্তা হাবিবকে, যা কালেকশন করেন শিশু মন্ডল। সে হিসাবে সর্বনিম্ন ১০০ নৌকার তালিকা নিলে সব মিলিয়ে সহকারি রেঞ্জ কর্মকর্তা হাবিবের পকেটে যায় ৫০০০০ টাকা। এ টাকা ভাগ হয় সিন্ডিকেটের সদস্য সহকারী রেঞ্জ কর্মকর্তা হাবিব, স্টেশন অফিসার জিয়া, এফজি মেজবাহ্ রেঞ্জ কর্মকর্তা ফজলুল হকের মধ্যে। অপরদিকে স্মার্ট বাহিনীতে ফরেস্টের যে সকল সদস্যরা যায় এই সকল সদস্যদের অবৈধ ভাবে অভয়ারণ্যে জেলে কাঁকড়া ও বড়শির নৌকার জেলেদের নৌকা প্রতি দিতে হয় এক থেকে দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত। আর এই টাকা ভাগ হয় পার্সেন্টেজ আকার।
আবার গোপনে ৭ জন আউটসোর্সিং কর্মকর্তাকে গত ১৬ ই নভেম্বরে গোপনে নিয়োগ দিয়ে তাদেরকে বিভিন্ন স্টেশনে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে এদের মধ্যে রয়েছে, জুয়েল হাওলাদার, রিপন শেখ, হাসিবুল ইসলাম, সজীব রায়, মোহাম্মদ ওহিউদ্দিন, একলাসুর রহমান, মো: নাদিম মাহমুদ। এসব নিয়ে মোটা অংকের অর্থ লেনদেন হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে
এ বিষয়ে শিশু মন্ডলকে একাধিক বার ফোন দিল তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কোম্পানি মালিক বলেন, স্মার্ট বাহিনী নামার আগে তালিকা অভয়ারণ্য মাছ মারা জেলেদের নামের তালিকা দিতে হয়। এবং স্মার্ট বাহিনী উপরে উঠে আসার পর তাদের টাকা বুঝিয়ে দিতে হয়। তা না হলে অভয়ারণ্যে মাছ ধরতে দেয় না এবং নৌকা আটক করা হয়।
সাতক্ষীরা রেঞ্জ কর্মকর্তা মো: ফজলুল হক বলেন,আমরা কারণ দর্শানোর নোটিশ করেছি শিশু মন্ডলের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অভিযুক্ত শিশু মন্ডলকে বদলি না করে জামালকে বদলি করা হলো কেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন ডিএফও স্যার ইচ্ছা করলে যখন তখন যাকে ইচ্ছা মৌখিকভাবে বদলি করতে পারেন
এ বিষয়ে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা পশ্চিম এ জেড এম হাসানুর রহমান বলেন আসলে জামালের বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ থাকায় তাকে বদলি করা হচ্ছে। তবে শিশুকে কেন বদলি করা হচ্ছে না এমন প্রশ্নে এ বিষয়ে তিনি বলেন বিষয়টা আমি খতিয়ে দেখছি।