মোঃ আব্দুল্যাহ গাজী শ্যামনগর প্রতিনিধিঃ
শীতের শুরুতেই শিশুদের ঠাণ্ডাজনিত রোগের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় ভয়াবহ বেড সংকট দেখা দিয়েছে। হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে শয্যা মাত্র ৬টি থাকায় প্রতিদিন ২৫-৩০ জন শিশুকে ভর্তি করতে গিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বাধ্য হতে হচ্ছে শিশুদের মেঝে, সিঁড়ি এবং টয়লেটের পাশে শুইয়ে চিকিৎসা দিতে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, হাসপাতালের সিঁড়ি ও মেঝেতে শুইয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে বেশ কয়েকজন শিশু। তাদের পাশে বসে কষ্ট সহ্য করছেন উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা। মনজুরা খাতুন বলেন, “আমার ছেলে তিন দিন ধরে জ্বরে আক্রান্ত। বেড না পেয়ে এখন সিঁড়ির নিচে শুইয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে। রাতভর মশা ও ধুলোর মধ্যে থাকা খুব কষ্টকর।”
আরেক শিশুর অভিভাবক জ্যোৎস্না রানী জানান, তার তিন মাস বয়সী শিশু নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। এক সপ্তাহ ধরে ভর্তি থাকলেও শিশু ওয়ার্ডে জায়গা না পেয়ে তাকে টয়লেটের পাশে একটি বিছানায় রাখা হয়েছে, যা শিশুর জন্য আরও অসুবিধা সৃষ্টি করছে।
চিকিৎসকরা জানান, শিশুদের জন্য নির্ধারিত বেড সংখ্যা মাত্র ৬টি। প্রতিদিন ২৫-৩০ জন শিশু ভর্তি হয়। ৫০ শয্যার এই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন গড়ে ৪০০-৫০০ জন রোগী সেবা নিতে আসে, যাদের মধ্যে ৮০-১০০ জন ভর্তি থাকে। শ্যামনগরের পাশাপাশি পাশ্ববর্তী কালীগঞ্জ ও কয়রা উপজেলার মানুষও এখানে সেবা নিতে আসে।
হাসপাতালের পুরোনো ভবন ব্যবহার অনুপযোগী হওয়ায় তা পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। নতুন দোতলা ভবনের তৃতীয় ও চতুর্থ তলা নির্মাণ হলেও তা চালু হয়নি। শিশু ওয়ার্ডে শয্যা মাত্র ৬টি। স্থান সংকুলনের অভাবে শিশুদের ভবনটির একতলা থেকে তৃতীয় তলা পর্যন্ত সিঁড়িতে রাখা হচ্ছে, এমনকি টয়লেটের সামনের ফাঁকা জায়গায়ও। প্রশাসনিক ভবনের চারটি কেবিনকে পুরুষ ও নারী ওয়ার্ডে পরিণত করা হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার জিয়াউর রহমান জানান, “রোগীর চাপ কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। বেড সংখ্যা সীমিত, তাই অনেক সময় মেঝে, করিডোর বা সিঁড়িতেও রোগী রাখতে হচ্ছে। নতুন ভবন চালু হলে ও অতিরিক্ত বেড পেলে সংকট অনেকটা কমবে। আমাদের হাসপাতালে শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার নেই, একমাত্র মেডিকেল অফিসার দিয়ে সেবা দেওয়া হচ্ছে।”
স্থানীয়রা দ্রুত শিশু ওয়ার্ডে বেড সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি নতুন ভবন নির্মাণ, পর্যাপ্ত ডাক্তার ও নার্স নিয়োগ এবং শিশু ওয়ার্ড সম্প্রসারণের দাবি জানিয়েছেন।