স্টাফ রিপোর্টার
সাতক্ষীরা বুড়ি গোয়ালিনী স্টেশনের আউটসোর্সিং কর্মকর্তা শিশু মণ্ডলকে ঘিরে আবারও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। শিশু মন্ডলের নামে নানা অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও আবার তাকে পাঠানো হয়েছে স্মার্ট বাহিনীতে। গতকাল রাতে এ স্মার্ট বাহিনীর একটি টিম সাতক্ষীরা রেঞ্জ থেকে বের হয়। আর এ বাহিনীতে আউটসোর্সিং কর্মকর্তা শিশু মন্ডল যাওয়ায় নানা বিতর্ক ডানা মেলেছে বিভিন্ন মহলের মধ্যে।সম্প্রতি স্মার্ট বাহিনী জেলেদের থেকে আটক করা প্রায় ২০০ কেজি কাঁকড়া বিক্রি করার সহ বিভিন্ন অভিযোগে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও অজানা কারণে তিনি নিয়মিতই স্মার্ট বাহিনীর সঙ্গে অভিযানে অংশ নিচ্ছেন।খুলনা রেঞ্জের এসিএফ কর্তৃক সাতক্ষীরা রেঞ্জের ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পালনকালে শিশু মণ্ডলকে স্মার্ট বাহিনী থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল, কারণ তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ ছিল। কিন্তু নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত এসিএফ কাজে যোগদান করেই ক্ষমতাধর গ্রুপ—হাবিব, মেসবা ও জিয়ার সমর্থনে শিশুকে আবার প্রকাশ্য ঘোষণার মাধ্যমে স্মার্ট বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।অভিযোগ রয়েছে, আউটসোর্সিং হওয়া সত্ত্বেও শিশু মণ্ডল বিভিন্ন কোম্পানিকে প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলেন—তাকে ছাড়া নাকি স্মার্ট বাহিনী নামবে না। আর এ কারণেই স্মার্ট বাহিনী অভিযানে নামার আগেই তিনি বিভিন্ন কোম্পানি ও জেলেদের অবৈধ নৌকার তালিকা সংগ্রহ করেন।আউটসোর্সিং কর্মচারী শিশু মণ্ডলকে ঘিরে নতুন করে নানা অভিযোগ ঘুষ লেনদেন, জেলেদের নৌকার তালিকা সংগ্রহ, জব্দকৃত কাঁকড়া বিক্রি এবং অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বসহ একাধিক অভিযোগের কারণে রেঞ্জজুড়ে দুটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন কর্মকর্তারা। ফলে গোটা স্মার্ট বাহিনীতে সৃষ্টি হয়েছে অস্থিরতা ও অস্বচ্ছতা।
মাঠের তালিকা পরিবর্তনে রহস্য
সূত্র জানায়, চলতি গোনের স্মার্ট বাহিনী নামার দুই গোন আগে অভিযানের জন্য যে ১০ সদস্যের তালিকা প্রস্তুত করা হয়, সেখানে শিশু মণ্ডলের নাম ছিল না। কিন্তু পরবর্তীতে হঠাৎ করেই তার নামসহ আরও কয়েকজনের নাম তালিকায় যুক্ত করা হয়। এতে মাঠকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও আলোচনা তৈরি হয়।
জব্দ হওয়া ২০০ কেজি কাঁকড়ার ‘গায়েব’ রহস্য
অভিযোগ রয়েছে, কিছুদিন আগে শিশু মণ্ডল স্মার্ট টিমকে নিয়ে অভিযান চালিয়ে প্রায় ২০০ কেজি কাঁকড়া জব্দ করেন। কিন্তু পরে সেই কাঁকড়াগুলো তার ঘনিষ্ঠদের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। আর এই টাকার বণ্টন নিয়েই অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব চরমে ওঠে।
জেলেদের দাবি—জব্দ হওয়া কাঁকড়ার বাজারমূল্য ১.৫ থেকে ২ লাখ টাকার মতো। এই টাকার ভাগাভাগি নিয়েই স্মার্ট টিমের কয়েকজন ও বোর্ড সদস্যদের মধ্যে তীব্র বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে।
পূর্ববর্তী দুই গোনে স্মার্ট টিমে ছিলেন—
টিম লিডার: নির্মল বাবু (মুন্সীগঞ্জ স্টেশনের ওসি)এফজি: মোস্তাফির,এফডি: আরাফাত
আউটসোর্সিং: শিশু মণ্ডল, বাবু রাজু বাবুর্চি, বাদল,কোবাদাল স্টেশন: লিমন,কদমতলা: কাজী মিজান
ঘুষ লেনদেন নিয়ে নানা গুঞ্জন
জেলেদের অভিযোগ—অভিযান শুরুর আগেই শিশু মণ্ডল বিভিন্ন কোম্পানি ও জেলেদের কাছ থেকে তালিকা ও টাকা সংগ্রহ করেন। আবার স্মার্ট টিম অভিযান শেষে উপরে ফিরে এলে শিশুই মাঠে নেমে ‘কালেকশনে’ বের হন।
রিপন নামে এক জেলে বলেন—
“গত দুইবার শিশু না থাকলে নাকি স্মার্ট বাহিনী নামবে না—এমন কথা শোনা যায়। কারণ এএসএফ মোহাম্মদ ফজলুল হক, সহকারী রেঞ্জ কর্মকর্তা হাবিব ও স্টেশন অফিসার জিয়া—সবাই শিশুর কথাকেই গুরুত্ব দেন। শিশু মাঠে নামলেই টাকা কালেকশন শুরু হয়।”
অভ্যন্তরীণ কোন্দল চরমে
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাতক্ষীরা রেঞ্জের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে দুটি গ্রুপ তৈরি হয়েছে—
একদল শিশু মণ্ডলকে ‘মাস্টারমাইন্ড’ দাবি করে তার বিরুদ্ধে তদন্ত দাবি করছেন
অন্যদল তাকে স্মার্ট বাহিনীতে রাখতে প্রভাব খাটাচ্ছেন বলে অভিযোগ
কারণ দর্শানোর নোটিশ
রেঞ্জ সূত্র জানায়—অভিযোগের ভিত্তিতে শিশু মণ্ডলকে ইতোমধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
রেঞ্জ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফজলুল হক বলেন—“শিশুর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। তাই তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তবে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব থাকায় তালিকা তৈরির সময় বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।”
তবে অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কেন তাকে আবার স্মার্ট বাহিনীতে পাঠানো হলো—এ প্রশ্নের পরিষ্কার ব্যাখ্যা তিনি দিতে পারেননি।