নেপালের বর্তমান সংকটের জন্য আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব বা প্রপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন (পিআর) পদ্ধতি বহুলাংশে দায়ী বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। এটিকে তত্ত্বগতভাবে একটি ভালো পদ্ধতি দাবি করা হলেও নেপালের মতো বহু–জাতিগোষ্ঠী ও রাজনৈতিকভাবে বিভক্ত সমাজে এর প্রয়োগে নানা জটিল সমস্যা দেখা দিয়েছে। ফলে প্রায়ই যে কোনো ইস্যুতে শুরু হওয়া অস্থিরতা দেশি–বিদেশি নানা পক্ষের হস্তক্ষেপে তা বাড়তে বাড়তে চলে যাচ্ছে নিয়ন্ত্রণের বাইরে। যার শেষ পরিণতি গিয়ে ঠেকে সরকার পরিবর্তনে। ফলে ধ্বংসের মুখে রয়েছে দেশটির রাজনীতি ও অর্থনীতি।
ভারতীয় উপমহাদেশের মানুষের মধ্যে জিনগত মিল অত্যন্ত গভীর। কিন্তু ঐতিহাসিক, ধর্মীয়, ভাষাগত, সামাজিক, পরিবেশগত ও ভৌগোলিক পার্থক্যের কারণে এ অঞ্চলের সমাজ ব্যবস্থা, সংস্কৃতি ও মনস্তত্ত্ব বহুমাত্রিক ও বৈচিত্র্যময়। এ বৈচিত্র্য একদিকে যেমন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংঘাতের জন্ম দিয়েছে, তেমনি অন্যদিকে এটি এ অঞ্চলের অন্যতম শক্তির উৎসও বটে। এ বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির মধ্যে বহুমতের সহাবস্থান একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক বাস্তবতা। এ বাস্তবতা মেনে উপমহাদেশে সাংস্কৃতিক সাদৃশ্যপূর্ণ যেকোনো রাষ্ট্র একটি ইনক্লুসিভ পার্লামেন্ট বা অন্তর্ভুক্তিমূলক সংসদ গঠনের জন্য আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বমূলক (পিআর) নির্বাচন ব্যবস্থার দাবি উঠালে তা শুনতে যতটা শ্রুতিমধুর ও আকর্ষণীয় লাগে, বাস্তবে তা ততটা কার্যকর ও টেকসই নয়। পিআর পদ্ধতির নির্বাচন ব্যবস্থা ও গত ১০ বছরের শাসন কাঠামোর দিকে লক্ষ করলেই নেপালের প্রকৃত অবস্থা সহজে উপলব্ধি করা যায়। নেপালে পিআর পদ্ধতির নির্বাচন ব্যবস্থা বাংলাদেশে পিআর পদ্ধতি গ্রহণে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের একটি প্রকৃত মডেল হতে পারে। কেননা আর্থসামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অনেক বাস্তবতায় বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে উল্লেখযোগ্য মিল রয়েছে।