সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভোমরা ইউনিয়নের নবাতকাটি এলাকায় মাদক মামলা ঘিরে নতুন করে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। গত জুন মাসে স্থানীয় যুবক শামিম হোসেনকে আটক করে মাদক উদ্ধারের অভিযোগ আনে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। তবে এ ঘটনায় বিভিন্ন পক্ষ থেকে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য উঠে আসায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শামিম দীর্ঘদিন ধরে মৎস্য ঘের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তার পরিবার ও ঘনিষ্ঠরা দাবি করেছেন, শামিমের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তারা বলেন, শামিমকে আটকের সময় তার কাছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ ও ব্যক্তিগত মালামাল ছিল, যা পরবর্তীতে ফেরত পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে বিজিবির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, তার কাছ থেকে বোতলজাত ভারতীয় মাদক এবং বিদেশি মুদ্রা উদ্ধার করা হয়েছে।
তবে এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেছেন, ঘটনাটির পেছনে ব্যক্তিগত বিরোধ বা ভুল বোঝাবুঝি থাকতে পারে। অন্যদিকে বিজিবির এক দায়িত্বশীল সদস্য জানিয়েছেন, আটকের ঘটনায় কোনও অনিয়ম হয়নি এবং সব কিছু নিয়ম মেনেই সম্পন্ন করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, যদি কোথাও যোগাযোগের ঘাটতি বা ভুল তথ্য পরিবেশন হয়ে থাকে, সেটি ব্যক্তিগত ভুল হতে পারে।
এদিকে, ভুক্তভোগী পরিবার বিষয়টি নিয়ে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ—অভিযানের সময় শামিমকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে এবং ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হয়েছে।
সাতক্ষীরার সচেতন মহল মনে করছে, মাদকবিরোধী অভিযান একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যু। তবে এ ধরনের ঘটনায় স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত না হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হবে। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন, যাতে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসে।
সূত্র: আমাদের বসুন্ধরা