ডুমুরিয়া প্রতিনিধি
ডুমুরিয়া উপজেলার আটলিয়া ইউনিয়নের নরনিয়া বাস টার্মিনালের পিছনে অসুস্থ ও মরা গরু জবাই করে মাংস বিক্রির কথিত কসাইখানার খবর পেয়ে চুকনগর বাজার বণিক সমিতির নেতৃবৃন্দ শনিবার রাত ৯টার দিকে সেখানে উপস্থিত হয়ে ঘটনার সত্যতা পান। সে সময় কসাইখানার ভিতর ৫টি অসুস্থ ও ৩টি জবাই করা গরু দেখতে পান তারা। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আল আমীনকে জানানো হয় এবং বাজার বণিক সমিতির কোষাধ্যক্ষ মেহেদী হাসান বাবলু ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। এক পর্যায়ে চতুর্দিক থেকে প্রতিবাদের ঝড় উঠলে বাজার বণিক সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব সহিদুল ইসলাম উক্ত গরু ও এ ঘটনায় সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ৩জনকে আটকে রাখেন। পরদিন রোববার বেলা ১১ টার দিকে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট অপ্রতিম কুমার চক্রবর্তী নরনিয়া বাস টার্মিনালের পিছনে উক্ত কসাইখানায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। এ সময় অসুস্থ গরু জবাই করে বিক্রয়ের অপরাধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এর ৫২ ধারায় ৩জনকে ২মাসের জেল প্রদান করা হয়। এরা হলেন উপজেলার চাকুন্দিয়া গ্রামের মৃত কাছেম গাজীর ছেলে মোস্তাক গাজী (৪২), মাগুরাঘোনা ইউনিয়নের বাদুড়িয়া গ্রামের এয়াকুব আলী সরদার(৫০) ও কেশবপুর উপজেলার পাচারই গ্রামের জাকির মোড়লের ছেলে সাইফুল ইসলাম মোড়ল(২৫)। এরপর অসুস্থ জীবিত ৫টি গরু উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে চিকিৎসার জন্য দেওয়া হয়। জবাইকৃত গরু গুলো মাটিতে পুঁতে মাংস বিনষ্ট করা হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা মোঃ আশরাফুল কবির, প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তরের সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ডাঃ পপি রাণী, এস আই শামীম হাওলাদার, চুকনগর বাজার বণিক সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব সহিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক সরদার বিল্লাল হোসেন, কোষাধ্যক্ষ মেহেদী হাসান বাবলু প্রমুখ। জানা যায় উপজেলার নরনিয়া গ্রামে ইউপি সদস্য আব্দুস সালাম মহালদারের ঘর ভাড়া নিয়ে গোপালগঞ্জের গরুর ব্যাবসায়ী নাসিম উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে গরুর ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে।এখান থেকে ওই মৃত ও রুগ্ন গরুর মাংস গোপনে অধিক মুনাফার আশায় খুলনা,গোপালগঞ্জ, বরিশাল, পিরোজপুর সহ দেশের বিভিন্ন জেলার হোটেল রেস্টুরেন্টে সরবরাহ করা হয়ে থাকে।
এ ব্যাপারে ডুমুরিয়া উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা মোঃ আশরাফুল কবির বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রুগ্ন মরা গরুর মাংস স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এবং এ ধরনের কাজ পুনরায় যারা করার চেষ্টা করবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আল আমীন বলেন, অসুস্থ গরু জবাই করে বিক্রয়ের অপরাধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এর ৫২ ধারায় অপরাধীদের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। কসাইখানা সিলগালা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।