• রবিবার, ০৮ মার্চ ২০২৬, ০২:০০ অপরাহ্ন

খুলনাসহ দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চল জুড়ে ১০টির বেশী বাস ডাকাত গ্রুপ

খুলনাভিশন ডেক্স। কাজী আতিক / ১৮৪ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২০ মার্চ, ২০২৫

খুলনাসহ সমগ্র দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চল জুড়ে প্রায় ১০-১২টি বাস ডাকাত গ্রুপ সড়ক ও মহাসড়কে তৎপর রয়েছে। মহাসড়কে ডাকাতির ঘটনায় হাইওয়ে পুলিশ ১ হাজার ৪০০ জনের একটি তালিকা করেছে। ২০০৫ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ২০ বছরে মহাসড়কে ডাকাতির বিভিন্ন ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিরা এ তালিকায় রয়েছেন। তালিকায় থাকা প্রত্যেকের বাড়ি গিয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।
অপরদিকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধের ভিজিলেন্স টিমে যাত্রী কল্যাণ সমিতির প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত, ঈদের ১০ দিন আগে সড়ক ও মহাসড়ক থেকে সব ধরণের অটোরিকশা উচ্ছেদসহ সাতটি দাবি জানিয়েছে।
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র জানিয়েছে, খুলনাসহ সমগ্র দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চচল জুড়ে প্রায় দশ থেকে বারোটি বাস ডাকাত গ্রুপ সড়ক ও মহাসড়কে তৎপর রয়েছে। এই সড়ক ডাকাতরা এখন বেশীরভাগই সরব রয়েছে খুলনা-আরিচা মহাসড়ক, খুলনা-বরিশাল ও খুলনা-ফরিদপুর মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে কার্যক্রম করে। বাহিনীর সদস্যরা দেশীয় কয়েকটি ধারালো অস্ত্রের মাধ্যমে সাধারণ যাত্রী ও বাসের সটাফদের জিম্মি করে বলে বেশ কিছু ভুক্তভোগীর অভিযোগ।
সাধারণ বাস যাত্রী ও বাস স্টাফদের অভিযোগ, এ সকল দুর্ঘটনার পর পর বেশ কিছু স্থানে দেখা যায়, অদুরে হাইওয়ে পুলিশের টহল থাকলেও তারা নিরব দর্শকের ভূমিকায় থাকে। এছাড়াও সাধারণত দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলসহ দেশের প্রধান প্রধান সড়ক ও মহাসড়কে হাইওয়ে পুলিশের টহল তেমন চোখে পড়ে না।
হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি (অপারেশন) শফিকুল ইসলাম জানান, ডাকাদের একটি তালিকা করার হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী তাদের বিষয়ে খোঁজ খবর নিচ্ছে। যাত্রীদের নিবিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করতে চাই।
এদিকে সড়ক ও মহাসড়কে নিরবিচ্ছিন্ন যান চলাচলে হাইওয়েসহ সকল জেলার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ঈদ মৌসুমে জরুরী পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন যাত্রী কল্যাণ সমিতি। এক আলোচনা সভায় যাত্রী কল্যাণ সমিতির শফিকুল ইসলাম ‘ঈদযাত্রায় সড়কে ডাকাতি, ছিনতাই, সড়ক দুর্ঘটনার শঙ্কা উত্তরণে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তিনি মহাসড়কে ডাকাতি প্রসঙ্গে বলেন, ‘মানুষ যাতে বুঝতে পারে, পুলিশ ডাকাত খুঁজছে। তখন তারা সতর্ক হবে। তাহলে সাধারন যাত্রী ও বাস স্টাফরা নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারবে।
এ দিকে ’সড়কের শৃঙ্খলা রক্ষা করতে পুলিশ একা কোনো পরিবর্তন আনতে পারবে না বলে উল্লেখ করেন ডিআইজি শফিকুল ইসলাম। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সড়কে শৃঙ্খলা রক্ষায় সমন্বিতভাবে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
দক্ষিণ পশ্চিমা নাচল সহ সারা দেশের মহাসড়কে ১৩৯টি হাটবাজার আছে জানিয়ে শফিকুল ইসলাম বলেন, সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এগুলো উচ্ছেদ করবে। কিন্তু পুলিশ কি একাই পারবে এসব উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করতে? এগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে হলে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। এ সকল বাজারগুলোও সড়ক ও মহাসড়কের যানচলাচলে একটা বড় বাধা। মহাসড়কে ডাকতির একটা মুল পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে এই সকল অপরিকল্পিত হাট বাজার।
সভায় বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ফিটনেসবিহীন লক্কড়-ঝক্কড় যানবাহন চলাচল বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। মোটরসাইকেলের যাত্রী ও আরোহীর মানসম্মত হেলমেট নিশ্চিতকরণ, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধের ভিজিলেন্স টিমে যাত্রী কল্যাণ সমিতির প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত, ঈদের ১০ দিন আগে মহাসড়ক থেকে সব ধরনের অটোরিকশা উচ্ছেদসহ সাতটি দাবি জানানো হয়।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা