• শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ১১:৪৬ অপরাহ্ন

বহুরূপী প্রতারক বাপ্পি এখন কোকো স্মৃতি সংসদের নামে করছেন চাঁদাবাজি!

খুলনাভিশন ডেক্স / ১০৭ Time View
Update : সোমবার, ১৭ মার্চ, ২০২৫

কখনও আওয়ামী লীগ, কখনও বিএনপি, প্রতারক মামলার আসামী মাদক সেবী ও মাদক ব্যাবসায়ী জহিরুল ইসলাম বাপ্পি। বর্তমানে আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি খুলনা মহানগরের সভাপতির পরিচয়ে করছে চাঁদাবাজি। ইতিমধ্যে শনিবার নগরীর নিরালাল চাঁদার দাবিতে ব্যাবসায়ীকে গুলির অভিযোগ রয়েছে সে ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। এর আগে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালায় ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ভূয়া নিয়োগপত্র দিয়ে ১১লাখ টাকা আত্মসাৎ এর মামলায় ঢাকায় গ্রেফতার হয় সে ও তার সহযোগী।
২০০৫ সালে বিএনপি জামায়াত চার দলীয় জোট সরকারের পরাজয়ের পর খুলনায় থেকে ঢাকায় চলে যায় জহিরুল ইসলাম বাপ্পি। তার পিতার নাম পিতা রফিকুল ইসলাম। সেখানে আওয়ামী লীগের পরিচয় দিয়ে ভূয়া পরিচয় দেন ‘স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পার্সোনাল কাউন্সিলর পদে’। পরে ৫-৬ মাস পর বাপ্পী পদোন্নতি পেয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ‘চিফ অডিট অফিসার’ হওয়ার তথ্য প্রচার করতে থাকেন। সে সময় নিজাম উদ্দিনের ছেলেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অডিট অফিসার ও তার ভাগনেকে খাদ্য অধিদফতরের স্টোর কিপার পদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে ১৬ লাখ টাকা দাবি করেন বাপ্পী। নিজাম উদ্দিন বিভিন্ন তারিখে বাপ্পীকে ১১ লাখ টাকা দেন। এরপর বাপ্পী তাদেরকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও খাদ্য অধিদফতরের দুটি ভুয়া নিয়োগপত্র দেন।

এ অভিযোগে রাজধানীর পল্লবী থানায় একটি প্রতারণার মামলা হয় সে সময়। ডিবি মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে। ২০২২ সালের ২১ সেপ্টেম্বর রবিবার রাতে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল এলাকায় অভিযান চালিয়ে বাপ্পী ও তার সহযোগী জোবায়েরকে গ্রেফতার করে ডিবির লালবাগ বিভাগ। এসময় তাদের কাছ থেকে দুটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তিনটি ফ্যাক্সের সিল, জনপ্রশাসন খাদ্য ও অর্থ মন্ত্রণালয়রে অ্যাডমিনের সিল, মন্ত্রণালয়ের লোগো সংবলিত আইডি কার্ড, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ছয়টি নিয়োগপত্র, ভিজিটিং কার্ড, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের গাড়ির স্টিকার, উত্তরা ব্যাংকের যশোর শাখার একটি চেক বই, মন্ত্রণালয়ের সার্ভিস আইডি কার্ড, ভিজিটিং কার্ড, স্টিকার ও সিল জব্দ করা হয়

বৈবাহিক সূত্রে যশোরের বসবাস করতো জহিরুল ইসলাম বাপ্পি। তার অফিসে শোভাপেত বঙ্গবন্ধু ও পতিত স্বৈরাচার সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি। তার এক শশুড় আওয়ামী লীগ সমর্থিত ইউপি চেয়ারম্যান এর সমর্থনে পুরোপুরি আওয়ামী লীগ বনে যাওয়া জহির বাপ্পি করেন নানা প্রতারনার কাজ। প্রতারনার মাধ্যমে নানা জনের কাছ থেকে নেয় অনেক টাকা।
০৫ আগষ্টের খুলনায় হঠ্যাৎ দেখা মেলে তার। এখন তিনি বনে যান সম্পূর্ণ বিএনপি নেতা। আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি’র নামে নগরীতে শুরু করেন চাঁদাবাজি। গত ১৫মার্চ নগরীর নিরালায় লনি নামে এক ব্যাবসায়ীকে ৮-১০ টি মোটরসাইকেল যোগে মেরে ফেলার উদ্দেশ্যে দুই হাতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে দিয়ে কোপ দেয় এবং একটি গুলি করে বাপ্পি গং।

লনির বড় ভাই জনির জানায়, কিছুদিন ধরে আরাফাত রহমান কোক স্মৃতি সংসদ ( একটি ভূয়া সংগঠন) কথিত সভাপতি জহিরুল ইসলাম বাপ্পী ( ট্যারা বাপ্পী) ও সাধারণ সম্পাদক অহিদুজজামান আরিফসহ কিছু চিহ্নিত সন্ত্রাসী আমার ভাইয়ের কাছে ঈদকে সামনে রেখে বকশিশ দেওয়ার জন্য ১০ হাজার টাকা চাদা দাবি করেন। ১০/১২ দিন ধরে তারা আমরা ভাইয়ের কাছে টাকা চেয়ে আসছে। আমার ভাই এই টাকা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় একপর্যায়ে তর্ক বিতর্ক হলে তাকে তারা মেরে ফেলার উদ্দেশ্যে গুলি এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে চলে যায়।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, হাওলাদার সানোয়ার হোসেন মাসুম জানান গতদিনের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। আহতের পিতা জাহাঙ্গীর কবির খোকন থানায় বাদি হয়ে আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি সংসদের সাধারণ সম্পাদক আরিফ শেখের নাম উল্লেখসহ পাঁচ জনের নামে মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নং ২০ । তারিখ ১৬ মার্চ’২০২৫ইং।

এই আরিফ শেখ, জহিরুল ইসলামের বাপ্পির ডান হাত। বর্তমানে জহিরুল ইসলাম বাপ্পি যশোর থেকে এসে খুলনায় আরিফ শেখের আন্ডারে থেকে নানা ধরনের অপকর্ম করছে। আরিফ শেখের বিরুদ্ধে, মাদক, চাঁদাবাজি, অস্ত্রসহ বেস কয়েকটি মামলা রয়েছে নগরীর বিভিন্ন থানায়।
এদিকে গোপনসূত্রে জানাযায়, জহিরুল ইসলাম বাপ্পির বিরুদ্ধে মাদক সেবন ও মাদক বিক্রিরও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
নগর বিএনপির দপ্তরের দায়িত্বে থাকা শরিফুল ইসলাম টিপু জানান, আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি সংসদ নামে বিএনপির কোন অংগসংগঠন নেই। এই সংগঠনের সাথে বিএনপি কোন সম্পর্কও নেই। কেউ এই নাম ব্যাবহার করে কোথাও কোন অপকর্ম করলে তাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিকট সোপর্দ করার আহবান জানান তিনি।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা