হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল বঞ্চিত, নিপীড়িত ও শোষিত ছাত্র-জনতার গৌরবময় বিপ্লব, যা ফ্যাসিস্ট খুনি হাসিনার পতনের ভিত্তি নির্মাণ করেছে। সেসময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বানে লক্ষ লক্ষ ছাত্র-জনতা রাস্তায় নেমেছিল। তারা দুঃশাসনের শৃঙ্খল ভেঙে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের শপথ নেয়। দেশের সব ছাত্রসংগঠনই এই আন্দোলনের ব্যানারে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল, যা স্বৈরাচার পতনের আন্দোলনে বিরল সংহতির নজির।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সংগ্রামে শহীদ হয়েছেন অসংখ্য সাহসী বিপ্লবী তরুণ-তরুণী। রক্ত দিয়ে তারা ইতিহাসের নতুন অধ্যায় রচনা করেছেন। পিচ্চি রিয়া গোপ থেকে শুরু করে বৃদ্ধ রিকশাওয়ালা— শত শত নিরপরাধ মানুষের শাহাদাত এই আন্দোলনকে নৈতিক ও আত্মিক ভিত্তি দিয়েছে। আর বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়েছে এই আন্দোলনের ন্যায্য ভিত্তির উপর দাঁড়িয়েই। আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনই রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে রাজনৈতিক সংলাপে অংশগ্রহণের প্রধান দাবিদার।’
তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘আজ যারা জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সংলাপে আমাদের অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, তাঁদের কাছে জানতে চাই— ফ্যাসিস্ট হাসিনার পদত্যাগের সময় এই ব্যানারে আন্দোলনে সামিল হয়েছিলেন কেন? ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল কোন প্রটোকলের ভিত্তিতে? তখন তো কোনো আপত্তি তোলা হয়নি! এখন কেন এই প্রশ্ন সামনে আনা হচ্ছে?’
তিনি আরও বলেন, ‘যারা আজ মনিটরিং-সংক্রান্ত কৃত্রিম বিতর্ক সৃষ্টি করছেন, তারা আন্দোলনের মৌলিক ভিত্তিকে দুর্বল করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। আমরা স্পষ্ট করে জানিয়ে দিচ্ছি— বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনই এই গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্বদানকারী প্লাটফর্ম। এই প্লাটফর্মের নেতৃত্ব মেনেই দেশের সকল রাজনৈতিক দল ও সংগঠন আন্দোলনে অংশ নিয়েছিল। তাই রাষ্ট্রীয় পুনর্গঠনে আমাদের অবস্থান অনস্বীকার্য। আমাদের কোনো ‘মাদারপার্টির’ মনিটরিংয়ের প্রয়োজন নেই, এবং আমরা কোনো দলের স্বার্থসিদ্ধির জন্য কাজ করছি না।’
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘যারা এখন দায় চাপানোর রাজনীতি করছেন, তারা যেন নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের পরিণতি ভুলে না যান। ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করেনি, ভবিষ্যতেও করবে না। রাষ্ট্রীয় সংলাপ ও নতুন রাজনৈতিক দিকনির্দেশনায় আমাদের অংশগ্রহণ প্রশ্নবিদ্ধ করার সুযোগ নেই। আমাদের দেশ সংস্কারের পথ থেকে সরানোর কোনো অজুহাত গ্রহণযোগ্য নয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সর্বজনসমর্থিত প্লাটফর্ম, এবং আমরা আমাদের এই বৈধতা অক্ষুণ্ণ রাখব। কোনো ষড়যন্ত্রের মুখে নত না হয়ে সর্বশক্তি দিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলব। আমাদের সহস্র ভাইয়ের রক্তের দায় আমাদের কাঁধে, এবং সুন্দর বাংলাদেশ গড়েই সেই ঋণ শোধ করব। খুনি হাসিনা যেমন মিথ্যাচার ও অপপ্রচারে আমাদের দমানো সম্ভব হয়নি, ভবিষ্যতেও কেউ আমাদের দমাতে পারবে না ইনশাআল্লাহ।’
এর আগে, বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির প্রশ্ন করেন, উপদেষ্টাদের মিটিংয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ ও নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী কোন প্রটোকলের ভিত্তিতে অংশ নিয়েছিলেন? তিনি আরও বলেন, ‘হাসনাত আবদুল্লাহ বিভিন্ন সভা-সেমিনারে বক্তৃতা দিয়ে মানুষকে জ্ঞান দেন, ওয়াজ-নসিহত করেন। কিন্তু উপদেষ্টাদের মিটিংয়ে তিনি ও নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী কীভাবে গিয়েছিলেন, সেটাই আমরা জানতে চাই।